শনিবার, ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজ শনিবার | ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

আড়াইহাজারে জিএনবি ইটভাটার মালিকদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারী পরোয়ানা জারি

বুধবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২২ | ২:৩২ পূর্বাহ্ণ

আড়াইহাজারে  জিএনবি ইটভাটার মালিকদের  বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারী পরোয়ানা জারি

আদালতের নির্দেশ অমান্য করে পরিবেশ দূষণের অপরাধে আড়াইহাজার উপজেলার ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়নের জিএনবি ব্রিকস নামক ইটভাটার মালিকদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারী পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

আইনজীবী আমিনুল হক ভূইয়ার জনস্বার্থে বিবেচনা করে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নারায়ণগঞ্জের স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টের বিচারক মো. কাউছার আলমের আদালত এ আদেশ দিয়েছেন।

জানাগেছে, গত (১২ ডিসেম্বর) নারায়ণগঞ্জের স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টের বিচারক মো. কাউছার আলমের আদালতে মামলার আবেদন করেন ঢাকা বারের আইনজীবী এড. আমিনুল হক ভূইয়া। পরিবেশ নিয়ে অভিযোগ করলে ৬০ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নিয়ম রয়েছে কিন্তু ১০ বছর অতিবাহিত হলেও একটি অভিযোগ আমলে নেয়নি পরিবেশ অধিদপ্তর। বিষয়টি আদালতের নজরে আসলে মামলা গ্রহণ করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারী পরোয়ানা জারি এবং একই সাথে আড়াইহাজার থানার অফিসার ইনচার্জকে গ্রেপ্তারী পরোয়ানা তামিল সংক্রান্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। সি.আর মামলা নং- ৫৮/২২।

অভিযুক্তরা হলেন- আড়াইহাজার উপজেলার ছোট ফাউসা গ্রামের মৃত ইদ্রিস আলীর ৩ ছেলে ও জিএনবি ব্রিক্স নামের ইটভাটার স্বত্বাধিকারী মো. সামসুল হক, মো. জহিরুল হক ও মো. লিটন।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, এড. আমিনুল হক ভূইয়া জনস্বার্থে ২০১২ সালে ৩ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও একই তারিখে নারায়ণগঞ্জ পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালকের বরাবর অভিযোগ দায়ের করেন। তিনি অভিযোগ করেন, জিএনবি ব্রিক্স নামের ইটভাটাটির পরিবেশ দূষণের কারণে এলাকাবাসী মারাত্মক ঝুঁকিতে আছে। এই ইটভাটার আধা কিলোমিটারের মধ্যে দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ফলে ছাত্র-ছাত্রীরা স্বাস্থ্য ঝুঁঝিতে রয়েছেন।

এছাড়া এলাকার কৃষি জমির মাটি ব্যবহার করায় কৃষি উৎপাদন ব্যবহৃত হচ্ছে। ফলে পরিবেশ দুষণের পাশাপাশি এলাকার জনস্বাস্থ্য পড়েছে হুমকির মুখে। তাই সামগ্রীক কারনে জনস্বার্থে মামলাটি আবেদন করা হয়েছে।

এবিষয়ে আইনজীবী আমিনুল হক ভূইয়া বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের কোনো প্রকার ছাড়পত্র ছাড়াই অনুমোদনহীন ভাবে জিএনবি ব্রিক্স নামের ইটভাটার মালিক একটি বিশেষ শ্রেণীর লোকেদেরকে মাশহারা দিয়ে বছরের পর বছর ধরেই অবৈধভাবে ইটভাটাটি চলছে। আমি একাধিকবার নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও পরিবেশ অধিদপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলাম। পরবর্তী পরিবেশ আদালতে মামলা দায়ের করেছি। পরিবেশ দূষনের ঝুঁকি থেকে সাধারণ মানুষকে রক্ষা করতে সবাইকে জনস্বার্থে এগিয়ে আসা উচিত।

আদেশের সত্যতা নিশ্চিত করে আদালতের স্টোনোগ্রাফার কাম কম্পিউটার অপারেটর (ব্যক্তিগত সহকারী) সাইফুল মীর জানান, ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন আইন অনুযায়ী আবাসিক এলাকায় বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ১ কিলোমিটারের মধ্যে ইটভাটা স্থাপন করা বে-আইনী। বাদির অভিযোগ ৬০ দিন নয়, বরাং ১০ বছর প্রায় অতিবাহিত হয়েছে। আদালতের বিষয়টি নজরে আসায় অভিযোগ যৌক্তিক বলে মনে করায় মামলা গ্রহণ করে গ্রেপ্তারী পরোয়ানা জারি করেন। আদেশের অনুলিপি পরিবেশ অধিদপ্তর ও আড়াইহাজার থানায় পাঠানো হয়েছে।

এবিষয়ে জানতে নারায়ণগঞ্জ পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন এর ব্যবহৃত মোবারক নাম্বারে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তা বন্ধ পাওয়া গেছে।

এবিষয়ে আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিজুল হক হাওলাদার বলেন, আদালতের আদেশের অনুলিপি পেয়েছি। আসামিদের গ্ৰেফতার করতে এর মধ্যে একাধিকবার অভিযান চালানো হয়েছে। তারা বর্তমানে পলাতক রয়েছে। অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে আসামিদের গ্ৰেফতার করে আদালতে পাঠানো হবে।




সর্বশেষ  
জনপ্রিয়  

ফেসবুকে যুক্ত থাকুন