আগামী কাল ৯ ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সনের এই দিনে পাক হানাদার বাহিনীকে সম্মুখ যুদ্ধে বিতাড়িত করে বীর মুক্তিযোদ্ধারা আড়াইহাজার কে সম্পূর্ণ ভাবে শত্রুমুক্ত করে আড়াইহাজার থানায় জমায়েত হন। ঘোষণা করা হয় আড়াইহাজারকে পাকসেনা মুক্ত এলাকা হিসেবে।
আড়াইহাজারকে শত্রুমুক্ত করতে আকাশ, জল এবং স্থল পথে সব রকম যুদ্ধ করতে হয়েছে। ওই সময় যুদ্ধকালিন মুক্তিযোদ্ধা থানা কমান্ডার হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন তুখোড় ও চৌকস মুক্তিযোদ্ধা এম এ সামাদ। ডেপুটি কমান্ডার ছিলেন কাজী ওয়াজউদ্দিন। জলপথে যুদ্ধের নেতৃত্বে ছিলেন আহসানউদ্দিন মোল্লা এবং স্থলপথে যুদ্ধের নেতৃত্বে ছিলেন খালেকুজ্জামান মোল্লা।
এদের মধ্যে থেকে এম এ সামাদ এবং আহসানউদ্দিন মোল্লা আর জীবিত নেই। খালেকুজ্জামান মোল্লা এবং কাজী ওয়াজউদ্দিন জীবিত থাকলেও কাজী ওয়াজউদ্দিন শারিরীক ভাবে অনেকটাই অসুস্থ।এমতাবস্থায় কথা হয় আড়াইহাজার থানার সাবেক মুক্তিযোদ্ধা সাংগঠনিক কমান্ডার মোঃ লাল মিয়া সাথে। তিনি জানান, জলপথে বৃহত্তর মেঘনা নদীতে আহসানউদ্দিন মোল্লার নেতৃত্বে যুদ্ধ করে নদী পথে অনেক পাকাবাহিনীর নৌযান নষ্ট করা হয়েছে। হত্যা করা হয়েছে অসংখ্য পাকসেনা সদস্যদেরকে।
অপর দিকে খালেকুমজ্জামান মোল্লার নেতৃত্বে স্থল পথে অনেক সম্মুখ যুদ্ধ হয়। বোমা বিষ্ফোরণে ধ্বংস করা হয় ঢাকা সিলেট মহাসড়কের পাঁচরুখী ব্রিজ, যাতে করে পাক সেনারা ওই খালটি পার হয়ে সামনের দিকে এগুতে না পারে।
এ যুদ্ধে অনেক পাক সেনা হতাহত হয়। বগাদীতে সম্মুখ যুদ্ধে পাক সেনাদের সরাসরি গুলির মুখে শহিদ হন বীর মুক্তিযোদ্ধা ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপজেলার ইদবারদী গ্রামের কাজী মঞ্জুর হোসেন । তা ছাড়া মুক্তিযুদ্ধের সময় আড়াইহাজার উপজেলার ৩ জন বীর মুক্তিযোদ্ধার শহীদ হন।