রবিবার, ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১২ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজ রবিবার | ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

জেলা বিএনপিতে শাহ্ আলমের আধিপত্য ক্ষুন্ন

বৃহস্পতিবার, ১৭ নভেম্বর ২০২২ | ১১:০০ অপরাহ্ণ

জেলা বিএনপিতে শাহ্ আলমের আধিপত্য ক্ষুন্ন

নারায়নগঞ্জ জেলা বিএনপির রাজনীতি থেকে কর্তৃত্ব হারাচ্ছে বিএনপি নেতা শিল্পপতি শাহ আলম। সদ্য ঘোষিত নারায়নগঞ্জ জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির আহবায়ক ও সদস্য সচিবসহ নয় সদস্য বিশিষ্ট কমিটিতে স্থান হয়নি দীর্ঘদিন ধরে জেলা বিএনপির রাজনীতিতে ছড়ি ঘোরানো শিল্পপতি শাহ আলমের কোন অনুসারীদের। এতে করে বিএনপির রাজনীতিতে শাহ আলমের আধিপত্য হয়েছে ক্ষুন্ন। আর এতে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপিতে শাহ্ আলমের সময় ফুরিয়ে আসছে এমনটাই মনে করছে বিএনপির নেতা-কর্মীরা।

একাধিক সূত্র মতে, ২০১৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরপর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির সকল কমিটি থেকে পদত্যাগ করেন বিএনপির প্রভাবশালী এই নেতা। তিনি পদত্যাগ করলেও জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটি ও ফতুল্লা থানা বিএনপির কমিটিতে তার অনুসারীদের স্থান ছিলো উল্লেখ্যযোগ্য।

রাজনীতি থেকে শাহ আলম সরে গেলেও নারায়নগঞ্জ জেলা ও ফতুল্লা বিএনপির রাজনীতিতে তিনি পর্দার আড়ালে থেকে নিজস্ব বলয় তৈরি করে কল কাঠি নাড়ছিলো। তবে নারায়নগঞ্জ জেলা বিএনপির সদ্য ঘোষিত আহবায়ক কমিটিতে শাহ আলমের অনুসারী অধ্যাপক মামুন মাহমুদ ব্যতিত আর কেউ স্থান না পায়নি।

সুত্রমতে আরও জানা যায়, জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ও ফতুল্লা থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি শিল্পপতি মুহাম্মদ শাহ আলম এক সময়ে কল্যান পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির কোষাধ্যক্ষ ছিলেন। কল্যানপার্টি থেকে তিনি বিএনপিতে যোগদান করেন। তবে বিএনপির রাজনৈতিক আন্দোলন সংগ্রামে তার কোন উল্লেখযোগ্য ভুমিকা ছিল না। উল্টো আন্দোলনে রাজপথে না নামার জন্য কর্মীদের তার কঠোর হুশিয়ারী ছিল।

৯ম সংসদ নির্বাচনে অংশ নিলেও পরবর্তীতে কোন ধরনের আন্দোলনে না থাকায় এ নেতার বিরুদ্ধে কোন মামলা হয়নি। তবে দশম ও একাদশ নির্বাচনের পূর্বে তিনি একাধিক মামলার আসামি হয়েছিলেন। সেই সকল মামলা গুলোতে জামিন নেন এবং হাজিরাও দিয়েছেন।

পরবর্তীতে তিনি এসকল মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন বলে একাধিক সূত্র জানায়। এসকল মামলার কারণে শাহ আলম নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি পদ থেকে স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন।

প্রসঙ্গত, ২০০৭ সালের ওয়ান এলেভেনের পর থেকে হঠাৎ করেই আলোচনায় আসার চেষ্টা করেন ফতুল্লার জালাল উদ্দিন আহম্মেদের ছেলে শাহ আলম। ওই বছরে তৃতীয় ধারার কিছু রাজনৈতিক দল গঠন হলে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন শাহ আলম।
তিনি তখন নারায়ণগঞ্জ ক্লাব লিমিটেডে একটি ইফতার মাহফিলে মেজর জেনারেল (অব.) ইব্রাহিমকে অতিথি করেন। ওই অনুষ্ঠানে অতিথিরা দেশের দু’দলের দুই নেত্রীকে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেন।

রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে একটি মিলনায়তনে কিংস পার্টি খ্যাত কল্যাণ পার্টির আত্ম প্রকাশ ঘটে। ওই অনুষ্ঠানে লোকজন নিয়ে শাহ আলম উপস্থিত হন। অনুষ্ঠানে তিনি বক্তব্য দিয়ে কল্যাণ পার্টির জন্য কাজ করার অঙ্গীকার করেন।

কল্যাণ পার্টির প্রধান মেজর জেনারেল (অব.) ইব্রারাহিম সেদিন তার বক্তব্যে শাহ আলমের ওপর দলের সাংগঠনিক দায়িত্ব প্রদান করেন। শুরু হয় শাহ আলমের রাজনীতি। তখন শাহ আলম মোটা অঙ্কের টাকা কল্যাণ পার্টিকে অনুদান দেন।

২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নাটকীয়ভাবে শেষ মুহূর্তে বিএনপির মনোনয়ন পান শাহ আলম। নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থী সারাহ বেগম কবরীর কাছে সামান্য ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন।




সর্বশেষ  
জনপ্রিয়  

ফেসবুকে যুক্ত থাকুন