সোহেল কবির,স্টাফ রিপোর্টার
শত বছর সময়ের বিচারে যা দীর্ঘ এক যাত্রা, আর ইতিহাসের ভাষায় অবিরাম সাধনা ও আলোকিত পথচলা।
বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার দুধল এলাকায় প্রাচীন জনপদে অবস্থিত দুধল ইসলামিয়া (এম.এ) কামিল মাদ্রাসা সেই সাধনারই এক জীবন্ত দলিল।
দ্বীনি শিক্ষা, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধের আলো ছড়িয়ে দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি অতিক্রম করেছে গৌরবোজ্জ্বল এক শতাব্দী।
এই ঐতিহাসিক অর্জনকে স্মরণীয় করে রাখতে শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে আয়োজন করা হয় শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের পুনর্মিলনী ও ইসলামী সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা।
দিনব্যাপী এই আয়োজনে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত প্রাক্তন শিক্ষার্থী, আলেম-ওলামা, শিক্ষক, অভিভাবক ও সুধীজনদের অংশগ্রহণে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণ পরিণত হয় এক আবেগঘন মিলনমেলায়।
শতবর্ষের এই অনুষ্ঠানে অংশ নিতে এসে প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা ফিরে যান তাঁদের স্মৃতির ভাণ্ডারে। কেউ স্মরণ করেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীর হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক, কেউ তুলে ধরেন সংগ্রামমুখর ছাত্রজীবনের গল্প। সবার চোখে-মুখে ছিল গর্ব আর আবেগের স্পষ্ট ছাপ কারণ এই প্রতিষ্ঠান শুধু শিক্ষা দেয়নি, গড়ে দিয়েছে জীবনবোধ ও মূল্যবোধের দৃঢ় ভিত।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও মির্জাপুর দরবার শরীফ এবং ছদরে আ‘লা দুধল দরবার শরীফের পীর ছাহেব শাহ মোঃ আব্দুর শাকুর।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোঃ শাহিন হাওলাদার, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, কাস্পিয়া প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং।
বিশেষ অতিথি ও বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন মুফতী শাহ মোঃ সাইফুল্লাহ, অধ্যক্ষ, দুধল ইসলামিয়া কামিল (এম.এ) মাদ্রাসা এবং সদস্য সচিব আব্দুর রাজ্জাক খান, মার্কেটিং ম্যানেজার, ম্যাক্সএইড হসপিটাল, ঢাকা।
অনুষ্ঠানের শুরু হয় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে। এরপর মাদ্রাসার শতবর্ষের ইতিহাস, দ্বীনি শিক্ষা বিস্তারে এর অবদান এবং সমাজ গঠনে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের ভূমিকা তুলে ধরা হয়। এসময় শিক্ষক, অতিথি, আয়োজক কমিটি ও কৃতী ব্যক্তিদের সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।
এসময় বক্তারা বলেন, দুধল ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসা এক শতাব্দী ধরে আলেম, শিক্ষক ও দেশপ্রেমিক নাগরিক তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দ্বীনি শিক্ষার পাশাপাশি আধুনিক শিক্ষায় প্রতিষ্ঠানটিকে আরও সমৃদ্ধ করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
বক্তারা আরো বলেন, শতবর্ষ পেরিয়ে নতুন শতকে পদার্পণ করা এই প্রতিষ্ঠানকে যুগোপযোগী ও আধুনিক শিক্ষার সঙ্গে সমন্বয় করে এগিয়ে নিতে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মাদ্রাসার সার্বিক উন্নয়নে একটি শক্তিশালী অ্যালামনাই নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।
আলোচনা পর্ব শেষে অনুষ্ঠিত হয় ইসলামী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, নাশিদ পরিবেশন ও বিশেষ দোয়া মাহফিল। দোয়ায় দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করা হয়।
শতবর্ষের উৎসব উপলক্ষে পুরো মাদ্রাসা প্রাঙ্গণ সাজানো হয় বর্ণিল ব্যানার, ফেস্টুন ও নান্দনিক আলোকসজ্জায়। প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের মিলনমেলায় সৃষ্টি হয় এক আবেগঘন পরিবেশ, যা শত বছরের ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে আরও গভীরভাবে তুলে ধরে।
শত বছরের ইতিহাস পেছনে ফেলে দুধল ইসলামিয়া (এম.এ) কামিল মাদ্রাসা আজ নতুন শতকের দ্বারপ্রান্তে। এই শতবর্ষ উদযাপন শুধু অতীতের গৌরব স্মরণ নয়—বরং ভবিষ্যতের পথে দ্বীনি শিক্ষা, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধকে আরও দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠার এক নতুন অঙ্গীকার।