নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলায় নিজ ঘর থেকে গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছে তাঁর স্বামী।
সোমবার দুপুরে উপজেলার দয়াকান্দা গ্রামের পূর্বপাড়ায় ঘর থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় ওই লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায় পুলিশ। নিহত গৃহবধূ একই গ্রামের সুরুজ মিয়ার মেয়ে। তাঁর পলাতক স্বামী হলো, একই গ্রামের মো. আলম মিয়ার ছেলে রফিক মিয়া।
আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিজুল হক হওলাদা বলেন, ‘স্থানীয়রা জানালে পুলিশ গিয়ে ঘরের আড়ার সঙ্গে ওড়না দিয়ে পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেওয়া ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে। নিহতের শরীরে কোন আঘাতের চিহ্ন নেই। ময়নাতদন্তের পর হত্যা না আত্মহত্যা বলা যাবে।’
তিনি বলেন,‘নিহতের স্বজনদের দাবি এই নারীর স্বামী তাকে হত্যা করে ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে রেখেছে। তাছাড়া স্বামীও পলাতক রয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে। আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
নিহতের ভাই মো. ডালিম বলেন,‘প্রায় ২০ বছর আগে পারিবারিক ভাবে রফিকের সঙ্গে আমার বোনের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে ১৭ বছরের একটি ছেলে সন্তান আছে। সম্প্রতি রফিক প্রতিবেশী এক বিবাহিত নারীর সঙ্গে পরক্রিয়ার সম্পর্ক ঘরে উঠে।
এ বিষয়ে জানতে পেরে আমার বোন প্রতিবাদ করে। এ নিয়ে রফিকের সঙ্গে আমার বোনের প্রায় বাকবিতন্ডা হয়। এক পর্যায়ে রফিক আমার বোনকে মারধর করে। এ নিয়ে তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহে চলছিল। এর সূত্র ধরেই রফিক আমার বোনকে রোববার রাতে হত্যা করে ঘরের আড়ার সঙ্গে লাশ ঝুলিয়ে রেখে পালিয়ে যায়।’
তিনি বলেন,‘আমি আমার বোনের হত্যার বিচার চাই। দ্রুত রফিককে গ্রেপ্তার করা হোক। সেই সঙ্গে ওই পরক্রিয়া নারীকেও গ্রেপ্তার করা হোক। যার জন্য আমার বোনের সংসার নষ্ট হয়েছে, আমার বোনকে মরতে হয়েছে।’