বুধবার, ১১ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৬শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
আজ বুধবার | ১১ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

সিদ্ধিরগঞ্জে চোরাই স্বর্ণ কেনার অপরাধে গ্রেপ্তারকৃত দুই আসামি রিমান্ডে; স্বর্ণ চোরাকারবারী আসাদুজ্জামান বহাল তবিয়তে

শনিবার, ০৯ আগস্ট ২০২৫ | ৮:৩৬ অপরাহ্ণ

সিদ্ধিরগঞ্জে চোরাই স্বর্ণ কেনার অপরাধে গ্রেপ্তারকৃত দুই আসামি রিমান্ডে; স্বর্ণ চোরাকারবারী আসাদুজ্জামান বহাল তবিয়তে

সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি: সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজী সোনামিয়া বাজার এলাকার জামান জুয়েলার্সের ম্যানেজার নাজমুল ইসলাম গ্রেপ্তার হলেও বহাল তবিয়তে রয়েছেন মূলহোতা আওয়ামী লীগ কর্মী মো: আসাদুজ্জামান। গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলেও জামান জুয়েলার্স নামক স্বর্ণের দোকানের আড়ালে সুদের ব্যবসা, চুরি, ছিনতাই ও লুটের স্বর্ণ কিনে কোটিপতি বনে যাওয়া সোনামিয়া বাজার স্বর্ণ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ও ‘জামান জুয়েলার্সে‘র মালিক আসাদুজ্জামান নিশ্চিন্তে তার এসব ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। এতে এলাকার অন্য স্বর্ণব্যবসায়ীদের মাঝে বিরাজ করছে ক্ষোভ।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিদ্ধিরগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক মো: মামুন খালাসী জানান, পোনে ১৩ ভরি (১২.৭৫ ভরি) স্বর্ণ, ২২ ভরি রুপা এবং ১ লাখ ২০ হাজার টাকা চুরির দায়ে দায়ের করা মামলায় ও চোরাই স্বর্ণ কেনার অপরাধে এজাহারনামীয় আসামি জামান জুয়েলার্সের ম্যানেজার নাজমুল ইসলাম এবং ধনকুন্ডার মনছুর শেখকে ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদনসহ আদালতে প্রেরণ করা হয়। শুনানি শেষে আদালত তাদের ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। বর্তমানে তারা রিমান্ডে রয়েছে এবং জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

তিনি আরও জানান, চুরি হওয়া স্বর্ণের মধ্যে ২ ভরি ২ আনা উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি স্বর্ণ উদ্ধারে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া আরও কেউ চোরাই স্বর্ণ কেনায় জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক এমপি শামীম ওসমানের প্রভাব খাটিয়ে স্বর্ণের দোকানের আড়ালে রমরমা সুদের ব্যবসা শুরু করেন জামান জুয়েলার্সের মালিক আসাদুজ্জামান। ক্ষমতার প্রভাবখাটিয়ে তিনি হয়েযান সোনামিয়া বাজার স্বর্ণ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি। ফলে তার অপকর্ম নিয়ে কথা বলার সাহস পায়নি অন্য ব্যবসায়ীরা। ক্ষমতার দাপটে তিনি চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতি হওয়া স্বর্ণ কমদামে কিনে অল্পদিনেই কোটি কোটি টাকার মালিক হয়ে যান। সোনামিয়া বাজারে গড়ে তুলেন একাধিক স্বর্ণের দোকান।

সিদ্ধিরগঞ্জের গোদনাইল ধনকুন্ডা এলাকার আব্দুল মালেকের মেয়ে মামলার বাদী এড. দেলোয়ারা বেগম বেলী জানান আমাদের বাড়ি থেকে প্রায় ১৩ ভরি স্বর্ণ ও ২২ ভরি রুপা এবং ১লক্ষ ২০ হাজার টাকা চুরি করে রাফিন ও হাসিবুর রহমান নামে ২ শিক্ষার্থী।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, তারা ধরা পড়ার পর বেরিয়ে আসে জামান জুয়েলার্সের গোপন রহস্য। জামান জুয়েলার্সের সুদ ব্যবসার মক্কেল সংগ্রহকারী ৩ জন নারীর সহায়তায় ওই ২ শিক্ষার্থী চুরি করা স্বর্ণের সিংহভাগই বিক্রি করে জামান জুয়েলার্সে।

গ্রেপ্তারের পর ২ শিক্ষার্থী থানা পুলিশকে এতথ্য জানায়। তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত ৩০ জুলাই জামান জুয়েলার্সে অভিযান চালিয়ে ম্যানেজার নাজমুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে নাজমুল ইসলাম চোরাই স্বর্ণ কেনার কথা পুলিশের কাছে স্বীকার করেন। ওই চুরির ঘটনায় করা মামলায় নাজমুল ইসলাম ও সহযোগী ৩ নারীকেও আসামি করা হয়।

নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক সোনামিয়া বাজারের কয়েকজন স্বর্ণব্যবসায়ী জানান, জামান জুয়েলার্সে কোন স্বর্ণালংকার সাজানো নেই। তবু কয়েকজন কর্মচারি রেখে সবসময় দোকান খোলা রাখা হয়। বাজারে তার তিনটি স্বর্ণের দোকান রয়েছে। একটি তার ছেলে ওমর ফারুক, একটি আরেক ছেলে হৃদয় ও আরেকটি দোকান আসাদুজ্জামান নিজে পরিচালনা করেন। এলাকায় তিনি জামান স্বর্ণকার হিসেবে পরিচিত। দোকানে স্বর্ণ না থাকার কারণ হিসেবে তারা বলেন, আসাদুজ্জামানের মূল ব্যবসা সুদের। বিভিন্ন লোকজনের কাছ থেকে স্বর্ণ বন্ধক রেখে সুদে টাকা দেওয়া, চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতি করে লুটে আনা স্বর্ণালংকার কম দামে কিনেন তিনি। তাছাড়া বন্ধক রাখা স্বর্ণ ফেরত দেওয়ার সময় তিনি ভেজাল স্বর্ণ দেন। তার বড় ছেলে ছেলে জনি স্বর্ণ ব্যবসার পাশাপাশি মাদক ব্যবসায় জড়িত। তাকে ফেন্সিডিলসহ একাধিকবার পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। চোরাই স্বর্ণ কেনার অপরাধে দোকানের ম্যানেজার গ্রেপ্তার হলেও বহালতবিয়তে রয়েছেন দোকান মালিক আসাদুজ্জামান ও তার ছেলে ওমর ফারুক।

সকল অভিযোগ অস্বীকার করে আসাদুজ্জামান বলেন, আমার অজান্তে আমার ছেলে ওমর ফারুকের দোকাননের ম্যানেজার নাজমুল ইসলাম চুরি করা স্বর্ণ কিনেছিল। আর ফেন্সিডিলসহ গ্রেপ্তার হওয়া তার ছেলে জনি ষড়যন্ত্রের শিকার বলে তিনি দাবি করেন।

জামান জুয়েলার্সের একটি দোকানের দায়িত্বে থাকা আসাদুজ্জামানের আরেক ছেলে হৃদয় বলেন, চোরাই স্বর্ণ কেনার অভিযোগে যে দোকানের ম্যানেজারকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে সেটির দায়িত্বে আছেন আমার বড় ভাই ওমর ফারুক। স্বর্ণ বন্ধক রেখে সুদের ব্যবসার কথা অস্বীকার করলেও হুদয় বলেন, একান্ত পরিচিত কিছু কাস্টমার স্বর্ণ রাখতে চাইলে তাদের কাছ থেকে রাখা হয়। সবার কাছ থেকে নয়।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ শাহিনূর আলম বলেন, চোরাই স্বর্ণালংকার কেনায় জামান জুয়েলার্সের ম্যানেজার নাজমুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। চুরির মামলায় চোরদের সাথে তাকেও আদালতে প্রেরণ করা হলে আদালত তাদের জেলহাজতে পাঠানো নির্দেশ দিয়েছেন। মামলাটি তদন্ত চলছে। চোরাই স্বর্ণ কিনার সাথে দোকান মালিক জড়িত থাকার প্রমাণ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ম্যানেজার নাজমুল ইসলাম এবং ধনকুন্ডার মনছুর শেখ ৩ দিনের রিমান্ডে আনা হয়েছে।




সর্বশেষ  
জনপ্রিয়  

ফেসবুকে যুক্ত থাকুন