সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি : নিজ নিজ এলাকায় প্রভাব-প্রতিপত্তির কমতি নেই কারোর। এলাকায় বিভিন্ন সেক্টর নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে ক্ষমতার প্রভাব বিস্তার করে থাকেন প্রত্যেকেই। তবে কোটা আন্দোলনকে ঘিরে উ™ু¢ত পরিস্থিতিতেও তাদের কাউকেই দেখা যায়নি রাজপথে।
“কমপ্লিট শাটডাউন” কর্মসূচীতে কোটা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দুর্বৃত্তরা সিদ্ধিরগঞ্জ পুলের চৌরাস্তায় নির্মিত বঙ্গবন্ধু ম্যুরালে ইট পাটকেল নিক্ষেপ ও হামলা চালালেও প্রতিহত করতে এগিয়ে আসেনি কেউ। এঘটনায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের কোন প্রতিবাদও নেই। খোদ থানা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতার এলাকায় এরূপ কর্মকান্ডে তিনিও বিতর্কের উর্ধ্বে নয়।
ত্যাগী ও অবহেলিত নেতাকার্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রকাশ্যে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের মত প্রকাশ করে বলছেন, সহমত ভাইয়েরা এখন কোথায় ? পা চাটা থেকে গু চাটা তেলবাজ মাদারবোর্ডগুলোরে তো নেতা বানাইছিলেন, তারা এখন কামে আসে না? স্বার্থবাদি নেতারা শুধু টাকা চিনে, টাকার জন্য দলের লোকদের বিপক্ষে কাজ করে। সংগঠন বিক্রি করে খাওয়া পাতি নেতারা কই ? টাকা দিয়ে তারা মহানগর কমিটির নেতা হইছে। কমিটিও নাই, তার্ওা নাই।
তাদের মতে অবমূল্যায়নের কারনে আওয়ামী লীগের ত্যাগী ও তৃনমুল নেতাকর্মীদের সাথে শীর্ষ নেতৃবৃন্দের নেই কোন ঐক্য। তাদের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে মতভেদ ও দুরত্ব। তৃনমুল নেতাকর্মীদের দাবী শুধু দু:সময় এলেই সোনা যায় কে কোথায় আছো, সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। আর দু:সময় চলে গেলে নিজেরা ও তাদের আত্মীয় স্বজনরা সুযোগ সুবিধা ভোগ করবে। আর সে কারণেই সিদ্ধিরগঞ্জে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল ও থানা আওয়ামী লীগের সভাপতির বাড়িতে দুর্বৃত্তরা হামলা করলেও কেউ এগিয়ে আসেনি। থানার শীর্ষ নেতাদের এ থেকে যদি শিক্ষা হয়। এদিকে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনায় আওয়ামী লীগের তৃনমুল এক নেতা দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, এই সিদ্ধিরগঞ্জ পুলে অবস্থিত ফুটপাত ও ডিএনডির উপরে যে সকল দোকান রয়েছে প্রতি দোকান থেকে ভাগাভাগি করে হাজার হাজার টাকা চাঁদাবাজি করে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবুর রহমানের ভাতিজা ভান্ডারি গুরজার ওরফে পাকিস্তানি গুলজার, নাতি রাসেল, নাতি সাইফুল, নাতি মুন্না, ভাগিনা পরিচয়দানকারী বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন, তার ভাই কামাল, কামরুল, আরেক ভাতিজা পরিচয়দানকারী সালাউদ্দিন (বর্তমান প্রবাসী) তার দখলে ৫টা দোকানের চাঁদা উত্তলন করছে ইয়াহিয়া ওরফে শিবলু নামে এক ব্যাক্তি সহ আরো অনেকেই আত্নীয় স্বজন পরিচয়ে করছে চাঁদাবাজি। আবার অনেকেই এসব দোকানে অবৈধভাবে বিদুৎ ও পানি দিয়ে আদায় করছে হাজার হাজার টাকা।
এছাড়াও তারা ফুটপাতের ব্যবসায়ীদের কাছে সাংবাদিক ও পুলিশকে ম্যানেজ করার নামে টাকা আদায় করতে দোকান ব্যবসায়ীদের নানাভাবে হুমকি ধামকি দিচ্ছে বলে নাম না প্রকাশের শর্তে জানিয়েছে একাধিক ব্যবসায়ী। এই সিদ্ধিরগঞ্জ পুলে এমন একটি ঘটনা ঘটে গেল এখন কোথায় চাঁদাবাজ আত্মীয় স্বজনরা দাবী এখানকার স্থানীয় সাধারণ মানুষের।
কোটা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বিএনপি-জামায়াতের নৈরাজ্য দমনেও ছিলেন না তারা। মাঠে তাদের বাস্তবমুখী তৎপরতা দেখা যায়নি। ফলে নিজ নিজ এলাকায় সাধারণ মানুষের মাঝে তাদের নিয়ে বিরুপ আলোচনা চলছে। অনেকেই বলছেন, দলকে দিতে নয় বরং নিতে এসে এসেছেন তারা।
জানা গেছে, গত ১৮, ১৯ ও ২০ জুলাই কোটা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে এই কয়েক দিনে নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড, সানারপাড়, মৌচাক ও চিটাগাং রোডসহ সিদ্ধিরগঞ্জের আওতাধীন ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কে ব্যপক ভাবে নৈরাজ্য চালিয়েছে বিএনপি ও জামায়াত সহ তাদের সমর্থিত গোষ্ঠী। এমন অভিযোগ আওয়ামী লীগ নেতাদেরই। তবে এই এই নৈরাজ্য দমনে রাজপথে দেখা যায়নি সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের কোন নেতাদের। একাধিক অবহেলিত ও ত্যাগী নেতাকর্মীরা জানান, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুজিবুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক হাজী ইয়াসিন, ১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আনোয়ার, ৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মতিউর রহমান মতি, ৮নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর রুহুল আমিন মোল্লা, ১০নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ইফতেখার আলম খোকন, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা আমিনুল ইসলাম রাজু, শফিকুল ইসলাম শফি, আদমজী আঞ্চলিক শ্রমিক লীগের সভাপতি সামাদ বেপারী ওরফে লেতুর সামাদ ও সাধারণ সম্পাদক কবির হোসেন ক্ষমতাসীন দলের রাজনীতির প্রভাবে ফুলে ফেঁপে উঠেছেন।
তাদের কথাই এলাকায় শেষ কথা হিসেবে গন্য। তাদের প্রত্যেকেরই রয়েছে লাঠিয়াল বাহিনী। বিভিন্ন সেক্টর দখল কিংবা আধিপত্য বিস্তারের সময় ওই লাঠিয়াল বাহিনীকে ব্যবহার করে থাকেন তারা। তাদের নিয়ন্ত্রণে বিশাল বাহিনী থাকলেও গেল কয়েকদিনের অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে তাদের কাউকেই রাজপথে দেখা যায়নি। দেখা যায়নি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কেও।
যদিও কয়েকটি সূত্রে জানা গেছে, এসকল আওয়ামী লীগ নেতাদের অনেকের বাড়িতেও হামলা চালানো হয়েছে এমন খবর পাওয়া গেছে। এরপরও তাদের কাউকে রাজপথে নামতে দেখা যায়নি। তারা নিজেরাই ভয়ে আতংকে। অনেকেই ছিলেন নীবর নিরুত্তাপ। ভাদের এই নিরবতা নিয়েও নানা প্রশ্ন জেগেছে সাধারণ মানুষের মাঝে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের একটি পক্ষ জানিয়েছে, মূলত দলের ব্যনারে থেকে বিভিন্ন সেক্টর নিয়ন্ত্রণ এবং এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের মাধ্যমে পকেট ভারি করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য। দলের দুর্যোগের সময় তারা মাঠে না থেকে তাদের মুখোশই যেন উন্মোচন করেছেন।
দলের দুঃসময়ে গর্তে লুকিয়ে থাকা নেতাদের কাছ থেকে আদৌ কী কোনো সুবিধা পাবে আওয়ামী লীগ? নাকি দলের ব্যনারে থাকায় কেবল সুবিধাই দিয়ে যাবে তাদের সেই প্রশ্ন এখন আওয়ামী লীগের ত্যাগী ও প্রবীন নেতাদের।