বুধবার, ১১ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৮শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
আজ বুধবার | ১১ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

সোনারগাঁয়ের নোয়াগাঁও হাইস্কুলে অতিরিক্ত ফি কেলেঙ্কারি: অভিযোগের পরও নীরব প্রশাসন

সোমবার, ২০ অক্টোবর ২০২৫ | ৫:১৮ পূর্বাহ্ণ

সোনারগাঁয়ের নোয়াগাঁও হাইস্কুলে অতিরিক্ত ফি কেলেঙ্কারি: অভিযোগের পরও নীরব প্রশাসন

সোলায়মান হাসান :
সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা অতিরিক্ত আদায়ের অভিযোগে তোলপাড় নোয়াগাঁও হাইস্কুল। অভিযোগ প্রমাণসহ প্রকাশিত হওয়ার পরও ২০ দিন পার হলেও প্রশাসনের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেই। ফলে ক্ষোভ ও ক্ষরণ ছড়িয়ে পড়ছে শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং স্থানীয়দের মধ্যে।

জানা গেছে, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে “বিশেষ কোচিং” ও “অতিরিক্ত ক্লাস” নামে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৩,০০০ থেকে ৪,০০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করে আসছেন। সরকারি নির্ধারিত এসএসসি পরীক্ষার ফি ২,২০০ টাকা হলেও, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা হয়েছে প্রায় দ্বিগুণ। এভাবে দুই ব্যাচ থেকে আদায় হয়েছে আনুমানিক দুই লক্ষাধিক টাকা।

অভিযোগ রয়েছে, এই অর্থের কোনো সরকারি হিসাব নেই, বরং ব্যক্তিগতভাবে উত্তোলন করে “নিয়মিত খরচ” নামে গোপনে লেনদেন করা হয়। স্থানীয় অভিভাবকরা বিষয়টিকে “শিক্ষাক্ষেত্রে প্রকাশ্য চাঁদাবাজি” বলে মন্তব্য করেছেন।

অভিভাবক আমিনুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
“শিক্ষক যদি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে অবৈধ টাকা নেয়, তাহলে সততা শেখাবে কে? প্রশাসন জানে, প্রমাণ আছে, তবু কোনো ব্যবস্থা নেয় না—এটাই সবচেয়ে লজ্জাজনক।”

অন্যদিকে এক শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,
“অভিযোগের কপি শিক্ষা অফিস, জেলা প্রশাসক এমনকি শিক্ষা বোর্ডেও গেছে। কিন্তু ২০ দিনেও কেউ তদন্তে আসেনি। এই নীরবতা প্রশ্ন তোলে—তাদেরও কি ভাগ আছে?”

উপজেলা শিক্ষা অফিসের সহকারী মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জানান,
“অভিযোগ পেয়েছি। প্রাথমিক তদন্ত চলছে। প্রমাণ মিললে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তবে অভিযোগকারীরা বলছেন, “তদন্ত চলছে”—এই অজুহাত দিয়ে বছর পার করাই প্রশাসনের পুরনো কৌশল।

স্থানীয় শিক্ষা বিশ্লেষকরা বলছেন,
“সরকার যখন বিনামূল্যে শিক্ষা নিশ্চিত করতে চায়, তখন কিছু স্কুলে এই অবৈধ অর্থ আদায় পুরো শিক্ষা ব্যবস্থাকে কলুষিত করছে। প্রশাসন চুপ থাকলে এর দায় তাদেরও নিতে হবে।”

এ ঘটনায় সোনারগাঁও উপজেলা প্রশাসন ও মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নীরবতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠেছে। অভিভাবক সমাজের দাবি—
“দ্রুত তদন্ত করে প্রধান শিক্ষককে অপসারণ ও অর্থ ফেরতের ব্যবস্থা না হলে আমরা রাজপথে নামব।”




সর্বশেষ  
জনপ্রিয়  

ফেসবুকে যুক্ত থাকুন