শহরের বাজারগুলোতে দফায় দফায় বাড়ছে নিত্যপণ্যের দাম। এরই মধ্যে ডিমের বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। ডিমের ডজনে ১০ টাকা কমেছে। সব ধরনের সবজি কেজিতে ৫ টাকা বেড়েছে। এছাড়া বাজারে দাম বেড়েছে মুরগি ও পেঁয়াজের।
ব্রয়লার মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৪০ থেকে ২৫০ টাকায়, যা গত সপ্তাহে ছিল ২২০ থেকে ২৩০ টাকা। সোনালি মুরগির কেজি ৩৫০ থেকে ৩৬০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ৩১০-৩২০ টাকা। লেয়ার মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩১০ থেকে ৩২০ টাকায়, যা গত সপ্তাহে ছিল ২৮০-২৯০ টাকা। পেঁয়াজ কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়।
শুক্রবার শহরের কালির বাজার, দিগুবাবুর বাজার, বন্দর, ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জের বাজার ঘুরে এই চিত্র দেখা গেছে। বাজারদরে ক্রেতাদের অসন্তুষ্টি থাকলেও পরিস্থিতির স্বীকার বলছে বিক্রেতারা।
সিদ্ধিরগঞ্জে আহসান উল্লাহ মার্কেটের এক ডিম বিক্রেতা বলেন, ডিমের দাম ডজনে ১০ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকা। কয়েকদিন আগেও ১৪০ টাকা বিক্রি করা হয়। হাঁসের ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ২২০ টাকায়। দেশি মুরগির ডিমের ডজন ১৯০ টাকা। দিনদিন সব ধরনের নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে। রমজানেতো নিত্যপণ্যের দাম আরও বাড়বে।
পাইকারি বাজারে দাম বাড়লে আমরা যারা খুচরা বিক্রেতা তাদেরতো কিছু করার থাকে না।
এদিকে, বাজারে গরুর মাংস আগের বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ টাকায়। দুই সপ্তাহ আগে বিক্রি হতো ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকায়। খাসির মাংসের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১০০০-১১০০ টাকায়। আগে বিক্রি হতো ৯০০ থেকে ১০০০ টাকায়।
সবজির বাজার ঘুরে দেখা যায়, আকারভেদে বাঁধাকপি ও ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে ৩০-৩৫ টাকায়। প্রতি কেজি শসা ৫০-৬০, বেগুন ৬০-৮০, টমেটো ৩০-৪০, শিম ৫০-৬০ ও করলা ৮০-৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চাল কুমড়া প্রতিটি ৫০-৬০, লাউ আকারভেদে ৬০-৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মিষ্টি কুমড়ার কেজি ৪০ টাকা, চিচিঙ্গা ৬০, পটল ৮০, ঢেঁড়স ১০০, কচুর লতি ৬০-৭০, পেঁপে ৩০-৪০, বরবটি ১০০ ও ধুন্দুল ৫০-৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
কমেছে কাঁচামরিচের দাম। প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকায়। গত সপ্তাহে কাঁচা মরিচের কেজি ছিল ১৯০ থেকে ২০০ টাকা। সবজি বিক্রেতা সোহেল রানা বলেন, সব ধরনের সবজির দাম কেজিতে ৪ থেকে ৫ টাকা বেড়েছে। শীত বিদায় নিয়েছে, তাই বাজারে সরবরাহ কমেছে সিম, মুলা, কপি, টমেটোসহ শীতকালীন সবজির। ফলে বাড়তে শুরু করেছে দাম।
মৌসুমের শুরুতে ভালো দাম পাওয়ায় চাষিরা আগেভাগেই সবজি বিক্রি করে ফেলেছেন। এতে শেষের দিকে বাজারেও ঘাটতি দেখা দিয়েছে। পেঁয়াজের দামও বেড়েছে। ৩০-৩৫ টাকা থেকে বেড়ে প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়। বড় রসুনের কেজি ১৪০ টাকা। ছোট রসুনের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১২০-১৩০ টাকায়। আদার কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৬০ টাকায়।
বাজারে প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ২৫ থেকে ৩০ টাকায়। খোলা চিনি প্রতি কেজি ১১৫ থেকে ১২০ টাকায়। খোলা আটার কেজি ৬০ টাকা। প্যাকেট আটা ৬৫ টাকা, যা আগে কেজি ছিল ৭০ টাকা। দুই কেজির প্যাকেট আটা বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকায়। দেশি মসুর ডালের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকায়। ইন্ডিয়ান মসুরের ডালের কেজি ১২০-১২৫ টাকা। বাজারে সয়াবিন তেলের লিটার বিক্রি হচ্ছে ১৮৭ টাকায়। লবণের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩৮-৪০ টাকায়।
বাজার করতে আসা শাকিল বলেন, মাছ-মাংসের চেয়ে সবজিটা মানুষের সবসময়ই প্রয়োজন হয়, বাজারে দেখছি এটার দামও বেশি। গরু ও মুরগির মাংস কেনাতো ছেড়েই দিয়েছি। সামনে রোজার মাস, হয়তো দেখবো জিনিসপত্রের দাম আরেক দফায় বেড়ে গেছে। সরকারের উচিত কঠোরভাবে বাজার মনিটরিং করা।