ঢাকার বিভাগীয় বিএনপির গনসমাবেশকে ঘিরে টানটান উত্তেজনা চলছে ফতুল্লার বিএনপির রাজনীতিতে। ইতিমধ্যে ফতুল্লার বিভিন্নস্থানে পুলিশের সাড়াশি অভিযান অব্যাহত আছে। অভিযানে বিএনপির একাধিক নেতৃবৃন্দ গ্রেপ্তারও হয়েছেন।
বাড়ীঘর ছাড়া রয়েছে দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। এ অবস্থায় ফতুল্লা বিএনপির নেতা কর্মীদের মাঝে বিরাজ করছে আতংক। বিএনপির নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করে বলেন, ১০ ডিসেম্বর ঢাকার সমাবেশকে ব্যর্থ করতে সরকার পুলিশকে ব্যবহার করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে পুলিশের হাতে দলের একাধিক নেতৃবৃন্দ গ্রেপ্তার হয়েছেন। এমনকি গত কয়েকদিনে ফতুল্লা থানায় দলের লোকজনদের বিরুদ্ধে একাধিক মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। অপরদিকে, নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে পুলিশ তাদের ধারাবাহিকভাবে মাঠে কাজ করছে।
জনসাধারনের যানমালের নিরাপত্তাসহ সন্ত্রাসী দমনে মাঠে রয়েছে পুলিশ। বিএনপির নেতৃবৃন্দের অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবি করা হয় ফতুল্লা পুলিশের পক্ষ থেকে। আইনশৃংখলা স্বাভাবিক রাখতে অনিদিষ্টকালের জন্য সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে এ অভিযান থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
এদিকে গত কয়েকদিনে, জেলা ছাত্রদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক মহিবুল্লাহ খোকন, বারদী ইউনিয়ন ছাত্রদল সভাপতি জহিরুল খান, মোগরাপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রদল নেতা গাজী রহমত উল্লাহ, ৯নং ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতির ছেলে রহমত উল্লাহ, আড়াইহাজার পৌর বিএনপির সহ-সভাপতি মোজাম্মেল হক, ছাত্রদলনেতা রতন, সিদ্ধিরগঞ্জ ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি উকিল উদ্দিন ভূঁইয়া, রুপগঞ্জ থানা ছাত্রদল সদস্য সচিব মাসুম বিল্লাহ, চনপাড়া ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি জয়নাল ব্যাপারী, কাঞ্চনপুর পৌর যুগ্ম আহবায়ক আব্দুল্লাহ মিয়া, পৌর ছাত্রদল আহবায়ক পাভেল মিয়া, ৭নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রশিদ মাশকুর, ৫ নং ওয়ার্ড ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক তুষার, সদস্য রাশেদুল ইসলাম রাশেল, কুতুবপুর ইউনিয়ন বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম মাতবরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
এ ব্যাপারে ফতুল্লা বিএনপির সদস্য সচিব শহীদুল ইসলাম টিটু বলেন, ১০ ডিসেম্বর ঢাকার বিভাগীয় গণসমাবেশকে নিয়ে অবৈধ সরকার বেসামাল হয়ে পড়েছে। শুরু করেছে বিএনপি নেতাকর্মীদের গণগ্রেফতার, মিথ্যা কাহিনী সাজিয়ে পাইকারীহারে মামলা দায়ের, গভীর রাতে নেতাকর্মীদের বাড়িতে ডাকাতের মতো হানা দেওয়া, পরিবারের সদস্যদের সাথে দুবর্যবহার চরম মাত্রায় শুরু করেছে আওয়ামী আইন শৃঙ্খলা বাহিনী।
টিটু বলেন, মনে হয় পুলিশ শেখ হাসিনার কাছে শপথ গ্রহণ করেছে যেভাবেই হোক ১০ ডিসেম্বর গণসমাবেশকে বাধাগ্রস্থ করতে হবে। ইতোমধ্যে জেলার গুরুত্বপূর্ণ নেতৃবৃন্দসহ উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ নেতৃবৃন্দকে মিথ্যা মামলা দিয়ে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। মনে হয় ক্ষমতাসীণরা জনআতঙ্কে ভুগছে। তাই ঢাকায় গণসমাবেশের কথা শুনেই তারা দিশেহারা হয়ে দমনের পথ অবলম্বন করছেন।