মো. জিয়াউর রহমান:
নারায়ণগঞ্জ-২ ( আড়াইহাজার) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি থেকে ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে নজরুল ইসলাম আজাদ এর নাম ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক।
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে নজরুল ইসলাম আজাদকে দলীয় মোনানয়ন দেয়ায় মঙ্গলবার দিনব্যাপী উপজেলার প্রতিটি এলাকায় দলীয় নেতা কর্মীরা মিষ্টি বিতরণ ও শোকরানা মিছিল করেছেন।
২০০৮ সালের নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-২ ( আড়াইহাজার) আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন আওয়ামীলীগের মনোনীত প্রার্থী নজরুল ইসলাম বাবু। বিগত ১৭ বছর আওয়ামী লীগ সরকার প্রহসনের নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় ছিল। নজরুল ইসলাম বাবু পর পর ৪ বার বিনা ভোটের এমনকি রাতের ভোটের এমপি নির্বাচিত হন।
বাবুর নির্দেশে টানা ১৭ বছর বিএনপি নেতাকর্মীরা আওয়ামী লীগের দেওয়া মিথ্যা মামলা ও হামলার শিকার হয়ে যখন নিরুপায় ও কোণঠাসা হয়ে যাচ্ছিলেন তখন বিএনপি’র বড় বড় নেতারা সাধারণ কর্মীদের খোঁজখবর পর্যন্ত রাখেননি। ঠিক তখনই আড়াইহাজারের বিএনপি’র হাল ধরেন নজরুল ইসলাম আজাদ।
বিগত ১৭ বছরে আওয়ামীলীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীদের দ্বারা হামলায় আহত বিএনপি, ছাত্রদল, যুবদলের নেতাকর্মীদের চিকিৎসার সমস্ত খরচ বহন করেন নজরুল ইসলাম আজাদ। এর মধ্যে আড়াইহাজার উপজেলা বিএনপি’র বর্তমান সাধারণ সম্পাদক উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি জুয়েল আহমেদ বেশ কয়েকবার ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীদের দ্বারা গুরুতর ভাবে আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। এর চিকিৎসার সকল ব্যয়ভার বহন করেন নজরুল ইসলাম আজাদ।
হাইজাদী ইউনিয়ন যুবদলের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রানা পেশায় একজন দলিল লিখক। তিনিও বেশ কয়েকবার তার কর্মস্থলে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীদের দ্বারা গুরুতরভাবে আহত হন। তাছাড়া ১৭ বছরে বিএনপির অনেক নেতাকর্মী আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীদের দ্বারা আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।
নজরুল ইসলাম আজাদ সকলের চিকিৎসার সমস্ত খরচ বহন করেন। ২০০৬ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে তৎকালীন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবু মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে জেল হাজতে যান। উপজেলা বিএনপি’র বর্তমান সভাপতি ইউসুফ আলী ভুইয়া সহ বিএনপি’র বেশির ভাগ নেতাকর্মী আওয়ামীলীগের ও পুলিশের দেয়া শত শত মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাবরণ করেন।
কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি সালাহউদ্দিন চৌধুরী শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী পালন করতে গিয়ে আওয়ামী সন্ত্রাসীদের হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন। তার সমস্ত চিকিৎসা ব্যয় এবং বিগত সময়ে আওয়ামীলীগের দেয়া সকল মামলার যাবতীয় খরচ জননেতা নজরুল ইসলাম আজাদ বহন করেছেন বলে তিনি জানান।
তিনি বলেন, এমনকি নজরুল ইসলাম আজাদ সকল নেতা কর্মীদের মামলার সকল খরচ বহন করেন এবং স্বশরীরে জেলগেটে গিয়ে তাদের খোঁজখবর নিয়েছেন, নেতাকর্মীদের জামিন করানোর সকল খরচ নজরুল ইসলাম আজাদ বহন করেছেন। পুলিশের দেয়া নাশকতার মামলায় তিনি নিজেও গ্রেপ্তার হয়ে দীর্ঘ দিন কারাবরণ করেন।
ওই সময় বিএনপির সাবেক এমপি সহ উচ্চ পর্যায়ের কোন নেতাকে সাধারণ কর্মীদের খোঁজখবর নিতে দেখা যায়নি। তাই আড়াইহাজারের বিএনপিমনা মানুষ বলছেন নজরুল ইসলাম আজাদ আছেন বলেই বিগত ১৭ বছর ধরে আওয়ামী লীগের দুঃশাসনের মাঝেও বিএনপি টিকে আছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি বিগত সময়ে নির্যাতিত, ত্যাগী, কর্মীবান্ধব রাজপথের পরিক্ষীত নেতা নজরুল ইসলাম আজাদকে মনোনয়ন দিয়ে সঠিক মূল্যায়ন করেছেন বলে ও মত দেন স্থানীয় ভোটাররা।