শফিকুল ইসলাম শফিকঃ
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা কুতুবপুর ইউনিয়নের আওতাভুক্ত প্রতিটি ওয়ার্ডে মশার উপদ্রবের কারণে সাধারণ মানুষ রয়েছে চরম ভোগান্তিতে। দিন দিন বেড়ে চলছে এ সমস্যা। মশার কামড়ে অতিষ্ঠ কুতুবপুরের লাখ মানুষ। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে আবেদন করেও কোনো প্রতিকার পাচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন অনেকেই।
এদিকে বিষাক্ত কয়েল জ্বালিয়ে, ধূপ পুড়িয়ে, অ্যারোসল স্প্রে করে কিংবা মশা মারার বৈদ্যুতিক ব্যাট ব্যবহার করেও মশার যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাচ্ছে না মানুষ। মশার কয়েল বিক্রেতা শাহী বাজারের দোকানদার ফজুল মিয়া জানান, এখন কয়েল ভালোই বেচাকেনা হচ্ছে। জানি কয়েলের ধোঁয়ায় মানুষের ক্ষতি হয়। তবুও সবাই বিক্রি করছে তাই আমিও বেচি।
স্কুল-কলেজগুলোতেও দিন দিন বেড়েই চলেছে মশার উপদ্রব। অথচ এ বিষয়ে একেবারেই নির্বিকার স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ। মশার জন্মস্থান নোংরা ড্রেন ও জলাশয়গুলোও পরিষ্কার করা হচ্ছে না। মশার লার্ভা মারার জন্যও লার্ভিসাইডসহ অন্য কোনো ওষুধের স্প্রে করা হচ্ছে না। খালপারের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আগে এলাকাতে মশা ছিল না। খাল- গুলোতে পচা পানি আসার পর থেকে মশার উপদ্রব বাড়তে থাকে। বালু ও খালের পচা পানি মশার বংশ বৃদ্ধির কারণ। তাছাড়া নোংরা ড্রেন ও জলাশয় তো রয়েছেই।
রাতে তো বটেই; দিনেও মশার যন্ত্রণা থেকে রেহাই মিলছে না তাদের। পুরো কুতুবপুর যেন মশার দখলে! শীত শেষে আবহাওয়া উষ্ণ হয়ে ওঠায় কুতুবপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার জলাশয় ও জমে থাকা ময়লার স্তূপে মশার প্রজনন বেড়ে গেছে। ফলে এলাকাবাসীর দৈনন্দিন জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে।
বাজারগুলোতেও মশার উৎপাত ব্যাপকভাবে বেড়েছে। শতাধিক বাজার ও এর আশপাশ এবং ড্রেনগুলো অপরিষ্কার থাকায় স্থানগুলো মশার চারণভূমিতে পরিণত হয়েছে। এছাড়া বাজার সংলগ্ন রাস্তার পাশে, মহসড়কের পাশে, খেলার মাঠ, খালের পাড়ে, নদীর তীরে, পুকুরপারসহ বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠেছে ময়লার স্তূপ। সেগুলো দীর্ঘদিন পরিষ্কার না করায় মশা উৎপাদন কারখানায় পরিণত হয়েছে। কয়েকটি জায়গায় ডাস্টবিন থাকলেও তার যথাযথ ব্যবহার নেই। ফলে যত্রতত্র ময়লা ও আবর্জনার স্তূপ থেকে মশার প্রকোপ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
মশা নিধনে কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়ায় এলাকাবাসীরা ক্ষুব্ধ। অনেকে মনে করেন, তিনদিন পরপর ড্রেনগুলোতে ওষুধ ছিটানোসহ স্প্রে করতে পারলে মশা কমে যাবে। এজন্য মশা নিয়ন্ত্রণের জন্য উপজেলা প্রশাসনের আলাদা একটা বাজেট থাকা উচিত। গত নির্বাচনের পূর্বে মশা মারার হিড়িক পড়লেও এখন কাউকে দেখা যায় না।
এই বিষয়ে কুতুবপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মনিরুল আলম সেন্টু বলেন,সরকারিভাবে মশার উপদ্রব বিষয়ে জানলেও মশক নিধনের প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ না করায় ইউনিয়ন পর্যায়ে তা দেয়া হচ্ছে না। নিজেদের অর্থায়নে কিছু কিছু জায়গায় ঔষুধ দেই কিন্তু তা পর্যাপ্ত পরিমাণ না।
৫ নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য বাবুল মিয়া বলেন,ভাই অনেক,অনেক বেশি মশা- এই ব্যাপারে আমি মানুষের কাছে জবাব দিতে পারছি না। এই যে ধরেন আপনার সাথে কথা বলতেছি হাত দিয়ে মোবাইলটা কানে নিতে পারতেছিনা মশার যন্ত্রণায়।আমাদের উপরে যারা আছে উপজেলা ইউএনও স্যার সহ সবাইকে বারবার বলতেছি কিন্তু আমাদেরকে কোন রকম ঔষধ সরবরাহ দিচ্ছে না, কি করব ভেবে পাচ্ছিনা।