ফতুল্লা প্রতিনিধি : ফতুল্লা থানার ৫টি ইউনিয়নের মধ্যে সবচেয়ে বেশী আলোচিত বক্তাবলী ইউনিয়ন পরিষদ। নদী বেষ্টিত এই ইউনিয়নটি নানা সময়েই থাকে আলোচনার কেন্দ্রে। সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য হিসেবে কু-খ্যাতি পাওয়া বক্তাবলী নিয়ন্ত্রণ করছে পঁাচটি সন্ত্রাসী গ্রুপ।
এই গ্রুপগুলোর নিয়ন্ত্রণে রয়েছেন সামেদ আলী, রহিম হাজী, মোতালেব, কাশেম ও আব্দুল ওরফে বুইট্টা আব্দুল। রহিম হাজী ও কাশেম গ্রুপ কিছুটা নিরব হয়ে গেলেও সামেদ আলী, মোতালেব ও আব্দুল বাহিনী এখনো বেশ সক্রিয় বলে জানায় এলাকার মানুষ।
সচেতন মহলের দাবী স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামীলীগ নেতা শওকত আলী বক্তাবলীর অশান্তের মূল কারন। তিনিই স্বীয় স্বার্থ হাসিলে কাউকে প্রকাশ্যে কাউকে গোপন মদদ জোগাচ্ছেন। আড়ালে অনেকেই তাকে বক্তাবলীর গডফাদার এবং বক্তবলীর মুকুটহীন সম্রাট বলে থাকেন।
সূত্রমতে, বক্তাবলী ইউনিয়নের মানুষের প্রধান ব্যবসা ইটভাটা। এই ইটভাটাতে মাটি সরবরাহ নিয়েই মূলত সন্ত্রাসী গ্রুপগুলো একে অন্যের সাথে দ্বন্ধে জড়ায়। তারা কথায় কথায় টেঁটা-বল্লম নিয়ে মল্লযুদ্ধে লিপ্ত হয়।
সর্বশেষ, রাজাপুর এলাকায় নিজেদের আধিপাত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম বাবুলের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর চালায় আব্দুল ওরফে বুইট্টা আব্দুল বাহিনী। সন্ত্রাসীদের হামলায় মহিলাসহ দুথজন আহত হয়। এ ঘটনায় ফতুল্লা মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী নজরুল ইসলাম বাবুল চেয়ারম্যান।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আব্দুল বাহিনী এলাকায় নিজেদের আধিপাত্য বিস্তার করতে একের পর এক হত্যা, হামলা করেই যাচ্ছে। এই বাহিনীর সন্ত্রাসীরা গত ২১ মার্চ প্রকাশ্য দিবালোকে রাজাপুর এলাকায় আলমগীর নামের এক যুবককে পিটিয়ে ও কুপিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে।
ওই ঘটনায় আব্দুল, ফারুক মেম্বার, কাউছার, সজিব, পাভেল, মতিনসহ ১৯জনের নাম উল্লেখ করে নিহত আলমগীরের স্ত্রী ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা করেছিল। র্যাবের হাতে ফারুক ও আব্দুল গ্রেফতারও হয়েছিল। পরে আসামিরা জামিনে বের হয়ে এখন আবারো এলাকায় নানা অপকর্ম করে বেড়াচ্ছে।
শান্ত বক্তাবলীর গডফাদার বা মুকুটহীন সম্রাট শওকত আলী ও ৫ সন্ত্রাসী বাহিনীর কারনে দিনদিন অশান্ত হয়ে পড়ছে। প্রশাসনের উচিত গডফাদাট সহ এসব সন্ত্রাসী বাহিনীর লাগাম দ্রুত টেনে ধরা।
এ বিষয়ে জানতে বক্তাবলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আওয়ামীলীগ নেতা এম শওকত আলী কে একাধিকবার ফোন দিলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।