রবিবার, ২৬শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৩ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজ রবিবার | ২৬শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

আড়াইহাজারের এমপি নজরুল ইসলাম আজাদ সহযোগী সীমার বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর দফতরে চিঠি

আড়াইহাজার (নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতা

শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬ | ৮:৫৪ অপরাহ্ণ

আড়াইহাজারের এমপি নজরুল ইসলাম আজাদ সহযোগী সীমার বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর দফতরে চিঠি

নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার পৌরসভার মুকুন্দী গ্রামের তাসনুভা জাহান পারুল জীবন বাঁচানোর আবেদন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দপ্তরে লিখিত পত্র দিয়েছেন।

লিখিত পত্র তাসনুভা জাহান পারুল উল্লেখ করেন, বয়স-২৮, পিতা- মোঃ মোস্তফা, গ্রামঃ মুকুন্দী, পোঃ আড়াইহাজার, থানা- আড়াইহাজার, জেলাঃ নারায়ণগঞ্জ।
গত ২০০১ ইং সালে আমার গর্ভধারীনি মা সীমা আক্তারের অনৈতিক সম্পর্কের কারনে আমার পিতা তাকে নারায়ণগঞ্জ যুগ্ম জজ (পারিবারিক) আদালতের মাধ্যমে তালাক প্রদান করে। তালাক প্রদানের সময় আমার বয়স ছিল মাত্র ০৪ বছর এবং আমার ছোট বোন তাবাসুম জাহান শাহনাজ এর বয়স ছিল মাত্র ০২ বছর। তালাকের পর আমার মা আমাদেরকে অসহায় অবস্থায় রেখে অন্যত্র বিয়ে করে চলে যায়। এর পর থেকে আমাদের পিতা অনেক কষ্টে মার অভাব বুঝতে না দিয়ে আমাদের লালন-পালন করে বড় করে তুলেছেন। আমরা বড় হয়ে জানতে পারি আমাদের মায়ের ইতোমধ্যে ০৩টি বিয়ে হয়েছে এবং প্রতিটি সংসারে তার একটি করে সন্তান রয়েছে। আমাদের কোন ভাই না থাকায় আমাদের পিতা সকল সহায় সম্পত্তি আমাদের দুই বোনের নামে ২০২২ সালে রেজিস্ট্রি মূলে দলিল করে দেন। সকল সম্পত্তির দলিল মূলে মালিক হয়ে আমরা দুই বোন নিজ নিজ নামে নামজারী করিয়া ভোগদখলকার নিয়ত আছি। বিগত ২৫ বছরে আমাদের মাকে আমরা কোনদিন দেখতে পাইনি।

বিএনপি পন্থী হওয়ায় বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে আমার পিতাসহ আমাদের আত্মীয় স্বজন অনেক অত্যাচার ও নির্যাতনের স্বীকার হয়েছি। স্থানীয় প্রতিবেশী এবং বিএনপি নেতাকর্মীদের সহায়তায় নানা অন্যায় অত্যাচার সহ্য করেও আমরা এতদিন যাবত আমাদের পিতাকে নিয়ে বসবাস করে আসছিলাম।

কিন্তু জুলাই আন্দোলনে স্বৈরাচার সরকার পতনের পর গত ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখে আমার পিতার তালাককৃত স্ত্রী আমাদের মা নামীয় অসতী ও লোভী মহিলা বর্তমান সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম আজাদ এর নির্দেশে (মহিলার নিজ মুখে স্বীকারোক্তীমূলক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে) সন্ত্রাসী নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে মেইনগেটের তালা ভেঙ্গে জোর পূর্বক আমাদের বাড়িতে প্রবেশের চেষ্টা করলে আমরা তাৎক্ষণিক জাতীয় জরুরী সেবা নম্বর ৯৯৯ এ ফোন করলে সেনাবাহিনী এবং আড়াইহাজার থানা পুলিশের একটি দল উক্ত বিতর্কিত মহিলাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। উক্ত ঘটনায় আমার পিতা আকস্মিক হার্ট এট্যাক করে শয্যাশায়ী হয়ে পড়েন। পরবর্তীতে সেনাবাহিনী ও আড়াইহাজার থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আহসানুল্লাহর মধ্যস্থতায় ভবিষ্যতে কোনদিন আমাদের দুই বোন, আমাদের অসুস্থ পিতা এবং বৃদ্ধ দাদী কোন নেতার নির্দেশ কিংবা প্রশ্রয়ে সম্পত্তির লোভ করিয়া মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে কোন ধরনের হয়রানি এবং সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের কোন চেষ্টা করবে না মর্মে স্বীকারোক্ত দিয়ে ছাড়া পায়।

এই ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ ইলেক্ট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়।

তবে গত ১৮ এপ্রিল ২০২৬ইং তারিখে উক্ত মহিলা স্থানীয় কিছু সন্ত্রাসীদেরকে সাথে দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে পুনরায় আমাদের সম্পত্তি দখলের উদ্দেশ্যে আমাদের বাড়িতে জোরপূর্বক প্রবেশ করে এবং বলে তারা স্থানীয় সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম আজাদ, তার ছোট ভাই রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং তাদের মায়ের নির্দেশে এখানে এসেছে। আমি তাৎক্ষণিক জাতীয় জরুরী সেবা নম্বর ৯৯৯ এ ফোন করলে আড়াইহাজার থানা পুলিশের এসআই পারভেজ এর নেতৃত্বে একটি দল এখানে এসে উল্টো বে-আইনীভাবে আমার পিতার তালাকপ্রাপ্ত ও বিতর্কিত এই মহিলাকে বাড়িতে প্রবেশ করিয়ে দেয়। বাধা দিতে গেলে সেই এসআই পারভেজ আমার এবং আমার বোনের গায়ে হাত তোলে এবং বলে এই মহিলাকে আশ্রয় না দিলে আমাদেরকে এমন মামলা দিবে যাতে সারাজীবন পাবনা পাগলা গারদে থাকার ব্যবস্থা করে দিবে এছাড়াও আমাদের কাছ থেকে জোরপূর্বক ষ্ট্যম্পে স্বাক্ষর নেয়ার চেষ্টা করে।আশেপাশের লোকজন প্রতিবাদ ও ভিডিও করতে আসলে উক্ত এসআই পারভেজ সকলকে গ্রেফতারের ভয় দেখায় এবং বলে এটা এমপি সাহেবেরে নির্দেশ।

সেই মহিলা, সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম আজাদ এবং পুলিশের মামলার ভয়ে এলাকার মানুষজন ভয়ে কোন প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছে না।

এইদিকে আমি গত ২০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে আমার প্রতিবেশী আত্মীয় স্বজনদের সহায়তায় কোনমতে বাড়ি থেকে পালিয়ে এসে আমার জীবন বাচিয়েছি।

আমার ছোট বোন এবং আমার ষ্টোকে আক্রান্ত শয্যাশায়ী অসুস্থ পিতা এবং আমাদের বৃদ্ধ দাদী উক্ত মহিলার জিম্মায় গৃহবন্দী অবস্থায় রয়েছে। সারাজীবন বিএনপি করে নির্যাতিত হয়ে এখন বিএনপি সরকার ক্ষমতায় থাকাবস্থায় এই দুশ্চরিত্র লোভী নারীর প্রলোভনে এবং এই নারী আমাদের সম্পত্তি দখল করতে পারলে সেখান থেকে সংসদ সদস্যকে দেয়ার প্রতিশ্রুতীতে সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম আজাদ এর সরাসরি হস্তক্ষেপে আমার মত মুসলিম কলেজ পড়ুয়া ছাত্রী বর্তমানে রাস্তায় রাস্তায় পালিয়ে বেড়াচ্ছি।
এই মহিলা আমাকে, আমার ছোট বোন শাহনাজ, আমার অসুস্থ পিতা ও বৃদ্ধ দাদীকে খুন করিয়া যেকোন মূল্যে আমাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করিবে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট আকুল আবেদন বিষয়টি সঠিক তদন্ত করে অভিযুক্ত মহিলা এবং নির্দেশদাতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করে আমার, আমার ছোট বোন ও আমাদের পিতা এবং আমাদের বৃদ্ধ দাদীর জীবন রক্ষার্থে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।




সর্বশেষ  
জনপ্রিয়  

ফেসবুকে যুক্ত থাকুন