শনিবার, ১৪ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
আজ শনিবার | ১৪ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

সিদ্ধিরগঞ্জে হত্যা মামলা তুলে নিতে বাদীকে হুমকি,স্বজনদের মানববন্ধন

শনিবার, ০২ আগস্ট ২০২৫ | ৯:৪৩ অপরাহ্ণ

সিদ্ধিরগঞ্জে হত্যা মামলা তুলে নিতে বাদীকে হুমকি,স্বজনদের মানববন্ধন

সিদ্ধিরগঞ্জে জনি হত্যা মামলার বাদী ও তার পরিবারকে মামলা তুলে নিতে হুমকি স্বজনদের মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল। গতকাল শনিবার সকাল ১১টায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মৌচাক বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করে নিহতের বাবা শুক্কর আলী ও স্ত্রী ইভা আক্তার। এসময় মামলার পলাতক আসামিদের দ্রæত গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবি জানান তারা।
নিহতের স্ত্রী ইভা আক্তার বলেন, আমাকে যারা অল্প বয়সে বিধবা ও ৩ বছরের প্রতিবন্ধী ছেলে জুনায়েদকে এতিম করেছে আমি তাদের ফাঁসি চাই। আসামিরা আমার স্বামীকে হত্যা করেছে এখন আবার হুমকিও দিচ্ছে মামলা না তুলে নিতে। মামলা না তুললে আসামীরা আমার পরিবার যে কাউকে হত্যা করবে বলে হুমকি দিয়ে আসছে।
মামলার বাদী নিহতের বাবা শুক্কুর আলী বলেন, আমার ছেলেকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। মামলার এজাহার নামীয় ৩ জন আসামি গ্রেফতার হলেও মূল পরিকল্পনাকারী মহাসিন ভূঁইয়াসহ ৪ জন এখনো গ্রেফতার হয়নি। তারা পলাতক থেকে তাদের লোকজনের মাধ্যমে মিমাংসা করে মামলা তুলে দেয়ার জন্য আমাকে ও আমার পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন হুমকি দিচ্ছে। এতে আমি ও আমার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। তাই পলাতক আসামিদের দ্রæত গ্রেফতার ও জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানাচ্ছি।
নিহতের মা মাজেদা বেগম বলেন, আমার ছেলে নিখোঁজ হওয়ার পর আমি ও ছেলের স্ত্রী ইভা তার সন্ধান করতে নূরুল আনোয়ারের নির্মাণাধীন তাকওয়া ভবনের সামনে গেলে নিরাপত্তারক্ষী আলমগীর আমাদের ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়নি। অথচ সে জানতো আমার ছেলেকে ওই ভবনের একটি কক্ষে হত্যা করেছে। লাশ ভনের লিফটের হাউজের নর্দমা পানিতে রয়েছে। আমি এ পাষাণদের ফাঁসি চাই। মানববন্ধনে নিহতের স্বজন ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, বিএনপি নেতা আফজাল হোসেন, ফজলুল হক মাদবর, আব্দুল মতিন, আব্দুল হালিম, ব্যবসায়ী লিটন মিয়া, আসলাম, সুমন মিয়া, শাহিন, মামুন, জুয়েল, বাধন, রাশেদ, শরিফ, ফাহিম, সবুজ, সোহেল, সান্তা, সুমাইয়া, সিমু, মিতু ও তাছলিমাসহ এলাকারবাসী। উল্লেখ্য, নিখোঁজের ৩ দিন পর গত মাসের ১৮ জুলাই দুপুরে নিমাইকাশারী এলাকার নির্মাণাধীন তাকওয়া ভবনের লিফটের জন্য রাখা ফাঁকা জায়গায় জমে থাকা নর্দমা পানি থেকে জনির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ১৯ তারিখে নিহতের বাবা শুক্কুর আলী বাদী হয়ে ৭ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাতনামা ৩ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। মামলার এজাহার নামীয় আসামি আলমগীর হোসেন, জাহাঙ্গীর হোসেন ও আকাশ হোসেনকে গ্রেফতার করে র‌্যাব ও পুলিশ। গ্রেফতারের পর তারা পুলিশের কাছে হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন বলে নিশ্চিত করেছেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ শাহিনূর আলম। গ্রেফতারকৃত আসামীরা বর্তমানে জেল হাজতে রয়েছে বলে জানা গেছে।




সর্বশেষ  
জনপ্রিয়  

ফেসবুকে যুক্ত থাকুন