শুক্রবার, ১৪ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
আজ শুক্রবার | ১৪ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
Home » Slider »

আধুনিক ক্লিনিক দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নেয়া প্রতারক ডাক্তার তাইফুরুল

সোমবার, ০৫ এপ্রিল ২০২১ | ৫:১৮ অপরাহ্ণ

আধুনিক ক্লিনিক দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নেয়া প্রতারক ডাক্তার তাইফুরুল

সিদ্ধিরগঞ্জে আধুনিক নামে একটি ক্লিনিককে পুজি করে ডাক্তার তাইফুরুল হাসান সাধারন মানুষকে বোকা বানিয়ে ব্যবসায়িক মুনাফার লাভের লোভ দেখিয়ে নগদ সাত লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে প্রতারনা করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী এ কে এম রুহুল আমিন। সিদ্ধিরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মশিউর রহমান অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, তদন্তকারী কর্মকর্তাকে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এদিকে স্থানীয়দের অনেকেই সন্দিহান তাইফুরুল হাসানের ডাক্তারি ও ক্লিনিকের বৈধ সনদ নিয়ে। তার স্ত্রী পেশাগতভাবে ডাক্তার না হয়ে ডাক্তার সেজে ক্লিনিকে অনবরত রোগি দেখে সাধারন মানুষের সরলতার সুযোগ নিয়েও প্রতারনা করছে বলে এমন অভিযোগও উঠেছে। কাগজ পত্র বিহীন অবৈধ ক্লিনিকের আড়ালে এ সকল প্রতারনা ও অসামাজিক কাজের মধ্যদিয়ে কালো টাকা হাতিয়ে নিয়ে থাকে বলে লোকমুখে গুঞ্জন রয়েছে। এ কে এম রুহুল আমিনের অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, খুলনার মৃত আলহাজ্ব হাফেজ আঃ মালেক এর পুত্র ডাক্তার এইচ এম তাইফুরুল হাসান নারায়ণগঞ্জ জেলা সিদ্ধিরগঞ্জ থানার বার্মাষ্ট্যান্ড এ দীর্ঘ দিন আগে সুফিয়া জেনারেল হাসপাতাল বর্তমানে আধুনিক জেনারেল হাসপাতাল নামে একটি ক্লিনিক গড়ে তুলেন। তার সাথে বন্ধুসুলভ সম্পর্ক গড়ে উঠে ফুুল্লা থানার হাজীগঞ্জ এলাকার মো. ফজলুল হক এর পুত্র এ কে এম রুহুল আমিন এর। রুহুল আমিন লেখাপড়া শেষ করে একটি গামেন্টস প্রতিষ্ঠানে দিন রাত হাড় ভাঙ্গা পরিশ্রমের চাকুরির মধ্য দিয়ে খেয়ে না খেয়ে স্ত্রী সন্তানের ভবিষ্যৎ চিন্তা করে অর্জিত টাকার কিছু সঞ্চয় করেছিলেন। জীবনে অর্থনৈতিক পরিবর্তনের চিন্তা করে চাকুরী ছেড়ে বিদেশে চলে যাবার সিদ্ধান্ত নেয়। চাকুরী ছেড়ে দিয়ে বিদেশ যাবার জন্য কাগজ পত্র ঠিক করতে থাকেন। তার এই অবস্থার সুযোগ নিয়ে চতুর তাইফুরুল ফন্দি করে রুহুল কে প্রস্তাব দেয় ক্লিনিকে দুটো মেশিন দরকার। মেশিন টা কিনলে ভালো অর্থ আয় হবে। সহজ সরল রুহুল আমিন তার কৌশল বুজতে না পেরে তার প্রস্তাবে রাজি হয়। রুহুলের ঘামঝড়া সঞ্চয় শর্তসাপেক্ষে সাত লাখ টাকা দেন মিশিন ক্রয় করার জন্য। এ বিষয়ে দু’জনার সাথে একটি চুক্তি নামা দলিল হয়। তাইফুরুল টাকা নিয়ে রুহুল আমিন কে জামানত বাবদ নিজ একাউন্ট নামিও একটি রিটার্ন চেক সাত লাখ টাকা প্রদান করেন। এ টাকা নেয়ার পর থেকেই তাইফুরুল এর প্রতারনার আসল চেহারা বের হয়ে আসে। টাকা নিয়ে চুক্তিনামা অনুযায়ী সে মেশিন ক্রয় করেনি। অংশীদার হিসেবে রুহুল আমিনকে বিনিয়োগ কৃত টাকার আয়ের হিসেব গোপন রেখে আয়ের নাম মাত্র অর্থ বন্ধু আনোয়ারের মাধ্যমে রুহুলকে দিয়ে সিংহভাগ আয়ের অর্থ নিজে আত্মসাৎ করতে থাকে। রুহুল আমিন তার প্রতারনার বিষয়টি বুজতে পেরে মূলধনের টাকা ফেরত চাইলে তখন থেকেই তাইফুরল তালবাহানা শুরু করে। ভুক্তভোগী রুহুল চুক্তিকৃত মেয়াদ শেষ হলে তাইফুরুলের কাছে টাকা ফেরত চাইতে গেলে তাইফুরুল টাকা ফেরত না দিয়ে উল্টো রুহুলকে অকথ্য গালিগালাজ সহ ভয়ভিতি দেখায়। এ ঘটনায় রুহুল নিরুপায় হয়ে ২ এপ্রিল সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন প্রতিকার চেয়ে। বর্তমানে রুহুল আমিন টাকা ফেরৎ নাপেয়ে মানসিক ভাবে ভেঙ্গে পড়েছেন এবং তাইফুরুলের হুমকিতে প্রান ভয়ে দিন যাপন করছেন। রুহুল আমিন তাইফুরুলের কাছ থেকে তার টাকা ফেরত এবং প্রতারকের হাত থেকে মুক্তি পেতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ ও সহযোগিতা কামনা করেন।




সর্বশেষ  
জনপ্রিয়  

ফেসবুকে যুক্ত থাকুন