শনিবার, ১৫ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ১লা আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
আজ শনিবার | ১৫ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
পুলিশ ও আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতার নাম ভাঙ্গিয়ে 

সাইনবোর্ডে আসলাম ও মাসুদের বেপোরোয়া চাঁদাবাজি

সোমবার, ২০ মে ২০২৪ | ৩:৪৭ পূর্বাহ্ণ

সাইনবোর্ডে আসলাম ও মাসুদের বেপোরোয়া চাঁদাবাজি

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কের সিদ্ধিরগঞ্জের সাইনবোর্ডের চৌরাস্তার মোড়ে ফুটপাতে দোকান বসিয়ে ব্যবসা করতে হলে আসলাম ওরফে বরিশাইল্যা আসলাম ও মাসুদ বাহিনীকে চঁাদা দিয়ে বসতে হয়। না হলে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতা ও পুলিশের ভয় দেখিয়ে হুমকি ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে আসলাম ও মাসুদ বাহিনীর বিরুদ্ধে। 

নাম না প্রকাশের শর্তে একাধিক সূত্র জানায়, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি হাজি ইয়াছিন মিয়া ও থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোজাম্মেল এর নাম ভাঙ্গিয়ে নির্বিঘ্নে বেপরোয়া চঁাদাবাজি ও বিভিন্ন অপরাধ কর্মকান্ড করছে আসলাম ওরফে বরিশাইল্যা আসলাম,মাসুদ ও তাদের সহযোগীরা।  এতে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে সাধারণ হকাররা আর আসলাম ও মাসুদ বাহিনী হাতিয়ে নিচ্ছে মাসে কমপক্ষে আড়াই লক্ষাধিক টাকা  যা বছরে ৩০ লাখেরও বেশি টাকা। 

এদিকে তাদের বিরুদ্ধে চঁাদাবাজির অভিযোগ অস্বীকার করলেও ফুটপাতে চঁাদাবাজির নিয়ন্ত্রনে নিয়োগকৃত তাদের বাহিনীর দুই সদস্য চাঁদাবাজ রুবেল ওরফে বরিশাইল্যা রুবেল ও দঁাতভাঙ্গা রাসেল প্রকাশ্যেই বলছেন, আমরা আসলাম ও মাসুদ ভাইয়ের নির্দেশে টাকা তুলি। তবে দোকানদের উপর নির্যাতন করিনা।

দোকানীরা বলছেন চাঁদা না দিলে রুবেল থানা পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ ও ডিবি পুলিশ দিয়ে তুলে নিয়ে মামলা দেওয়ার ভয় দেখায়। সাইনবোর্ড মোড়ে চুরি ছিনতাই, চঁাদাবাজি সব বিভিন্ন অপকর্মের সাথে জড়িত রুবেল। চঁাদাবাজ রুবেলের বিরুদ্ধে একাধিক মামলাও হয়েছে। 

জানা গেছে, সাইনবোর্ড এলাকায় ফুটওভার ব্রিজ, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কের পাশের ফুটপাতে অর্ধশতাধিক দোকান গড়ে উঠেছে। তার মধ্যে ভ্যানগাড়ি করে আঁখের রস, ডাব,ফল,চা-পান, শরবত, ঝালমুড়িসহ বিভিন্ন রকমের দোকান রয়েছে। এসব দোকানপাট থেকে প্রতিদিন ১৫০/২০০ টাকা করে চঁাদা আদায় করছে বরিশাইল্যা আসলাম। চঁাদা আদায়ের জন্য রুবেল ওরফে বরিশাইল্যা রুবেল ও দঁাতভাঙ্গা রাসেল নামে ২ জন লোক নিয়জিত করেছে আসলাম। তবে আসলামের শেল্টারে দোকানদের উপর চরম আত্যাচার নির্যাতন চালায় রুবেল ও রাসেল। তাদের দাপটে দিশেহারা ফুটপাত ব্যবসায়ীরা। 

ফুটপাত ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, পেটের দায়ে সরকারি জায়গায় দোকানপাট গড়ে তুলে ব্যবসা করছি। বেচাকেনা হোক আর না হোক আসলামকে প্রতিদিন চঁাদা দিতে হচ্ছে। চঁাদা না দিলে আসলাম তার সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে এসে মারধর করে পুলিশ ও নেতার ভয় দেখায়। এমনকি দোকান উপড়ে ফেলে দিয়ে মালামাল নষ্ট করে ফেলে। ফলে নিরুপায় হয়ে তাকে চঁাদা দিয়ে ব্যবসা করতে হচ্ছে। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এসব দোকানদাররা জানায়, প্রতিদিন দোকানপ্রতি ১৫০ টাকা করে চঁাদা দিতে হয়। অর্ধশতাধিক দোকান থেকে দৈনিক ১৫০ টাকা করে প্রায় ৮ হাজার টাকা চঁাদা আদায় হয়। যা মাসে দঁাড়ায় আড়াই লক্ষাধিক টাকা। চঁাদাছাড়াও দোকানদারদের দিতে হচ্ছে আলাদাভাবে দৈনিক ৫০ টাকা করে বিদ্যুৎ বিল।

ফুটপাত দিয়ে চলাচলরতরা জানায়, ফুট ওভার ব্রিজ ও ফুটপাতে দোকানপাট বসানোতে স্বাভাবিক চলাচলে বিঘ্ন হচ্ছে। বিশেষ করে এতে সবসময় মানুষের জটলা থাকায় ছিনতাইকারী, পকেটমার ও মাদকসেবীরা তাদের মালামাল, সাথে থাকা নগদ টাকা লুট করে নিয়ে যায়। এতে প্রায় সময়ই বিড়ম্বনায় পড়তে হয় তাদের। এসব ঘটনায় পুলিশে জানিয়েও অদৃশ্যকারণে কোনো প্রতিকার পাওয়া যায় না। অভিযোগ করতে গিয়ে পুলিশের দেখানো বিভিন্ন আইনি জটিলতার ভয়েও অনেকে আবার নিরবে নিশব্দে সর্বশান্ত হয়ে অপরাধীদের এসব নির্মম নির্যাতন ও অপরাধ মেনে নিচ্ছে। 

সচেতন মহল বলছেন, সিদ্ধিরগঞ্জ থানার পাশাপাশি কাঁচপুর হাইওয়ে থানা পুলিশ মহাসড়ককে বেন্দ্র করে যে সব অপরাধীরা অপরাধ কর্মকান্ড ও চঁাদাবাজি করছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলেই বন্ধ হবে এসব অপরাধ কর্মকান্ড।

এ বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাজি ইয়াছিন মিয়া বলেন, দীর্ঘদিন রাজনীতিতে জড়িত থাকার কারণে অনেক নেতাকমর্ী সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই আমাদের সাথে উঠবস কর্।ে তবে ব্যক্তিগত জীবনে কে কি করে তা তো আমরা সব সময় খোঁজ খবর রাখতে পারিনা। যদি কেউ আমার অথবা দলের নাম ভাঙ্গিয়ে অপরাধ কর্মকান্ড করে থাকে তা প্রমানিত হলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে অপরাধীদের নিয়ন্ত্রন করা পুলিশ প্রশাসনের কাজ। পুলিশ তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসতে আমাদের সর্বাত্মক সহযোগীতা থাকবে। 

এ বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোজাম্মেল হোসেন বলেন, আসলাম নামে আমি কাউকে চিনিনা। এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে পুলিশ সোচ্চার। অভিযোগ পেলেই দ্রুত চঁাদাবাজদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে। 

এ বিষয়ে কাঁচপুর হাইওয়ে থানার শিমরাইল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (টিআই) একেএম শরফুদ্দিন বলেন, মহাসড়কে কোনো প্রকার চাঁদাবাজকে পশ্রয় দেয়া হবেনা। কেউ চঁাদাবাজী করলে তাকে ধরে মামলা দেওয়া হবে। এসব চঁাদাবাজদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করতে কাজ চলছে।  




সর্বশেষ  
জনপ্রিয়  

ফেসবুকে যুক্ত থাকুন