বুধবার, ২২শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৮ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
আজ বুধবার | ২২শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

বিএনপি ও আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রের হাতে হাতকড়া পড়িয়ে দিয়েছে – গোলাম মোহাম্মদ কাদের 

শনিবার, ০২ জানুয়ারি ২০২১ | ১:৫৮ অপরাহ্ণ

বিএনপি ও আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রের হাতে হাতকড়া পড়িয়ে দিয়েছে – গোলাম মোহাম্মদ কাদের 

 

ফাহাদুল ইসলাম সোনারগাঁ প্রতিনিধি ঃ জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান ও বিরোধীদলীয় উপনেতা জনবন্ধু গোলাম মোহাম্মদ কাদের এমপি বলেছেন, বিএনপি ও আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রের হাতে হাতকড়া পড়িয়ে দিয়েছে। তিনি বলেন, পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ক্ষমতা হস্তান্তরের পরে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার পদ্ধতি থেকে সংসদীয় পদ্ধতি চালু করেছে। কিন্তু সংবিধান সংশোধন করে তারা ৭০ ধারা যোগ করেছে। এতে সংখাগরিষ্ঠতা পেয়ে যে দল সরকার গঠন করে সেই দলের প্রধানই হন সংসদীয় দলের প্রধান এবং সরকার প্রধান। আর ৭০ ধারার কারণে কোন সংসদ সদস্য দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট দিতে পারেন না।

তাই সরকারদলীয় প্রধান যা চান তাই সংসদে পাশ হয়। আবার সরকার প্রধান যা চাননা তা সংসদে পাশ হয়না। এতে ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ে এবং সরকারের জবাবদিহিতা থাকেনা।

নিয়ন্ত্রণহীন ক্ষমতায় দুর্নীতি বেড়ে যায়। বলেন, তাই বিএনপি ও আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মোট ৫ বার বিশ্বের মধ্যে বাংলাদেশ দুর্নীতিতে চ্যাাম্পিয়ণ হয়েছিলো।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ও বিএনপি গেলো ৩০ বছর ধরে ৭০ ধারা অপব্যবহার করে নিয়ন্ত্রণহীন ক্ষমতা ভোগ করেছে। সংসদ যেখানে সরকারকে নিয়ন্ত্রণ করবে সেখানে সরকারই সংসদকে নিয়ন্ত্রণ করছে।

ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণের কোন পথ আর নেই। তাই আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতা-কর্মীরা দুর্নীতি করে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়ে গেছে। তিনি বলেন, জাতীয় পার্টির শাসনামলে দুর্নীতি ছিলোনা, বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড ছিলোনা, ক্ষমতার অপব্যবহার ছিলোনা। গেলো ত্রিশ বছরে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির শাসনামলের চেয়ে জাতীয় পার্টির শাসনামলে বেশি সুশাসন ছিলো। জাতীয় পার্টির আমলে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ছিলো। তাই জাতীয় পার্টির নেতা-কর্মীরা বুক ফুলিয়ে কথা বলতে পারে। দেশের মানুষের কাছে গর্বভরে জাতীয় পার্টির প্রতি আহ্বান জানাতে পারে। আজ সন্ধ্যায় জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান-এর বনানী কার্যালয় মিলনায়তনে জাতীয় পার্টির ৩৫তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। এসময় জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান জনবন্ধু গোলাম মোহাম্মদ কাদের আরো বলেন, বিএনপি এখন সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য ডাক-চিৎকার করছে। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, বিএনপি কি সুষ্ঠু নির্বাচন দিয়েছে কখনো? বিএনপি ও আওয়ামী লীগ-এর মহাসচিবগণ প্রায়ই বিভিন্ন ইস্যুতে বাহাস করছেন। কিন্তু তারা সবাই গণতন্ত্রের হাতে হাতকড়া পরিয়ে গণতন্ত্রের স্বাভাবিক স্বাদ নষ্ট করেছে। তিনি বলেন, শুরু থেকেই জাতীয় পার্টি গণমানষের দল। বলেন, ’৯১ সালের নির্বাচনে দেশের সরকার, প্রশাসন, গণমাধ্যমসহ সবকিছুই জাতীয় পার্টির বিপক্ষে ছিলো। নির্বাচনে জাতীয় পার্টিকে প্রচারণা চালাতে দেয়া হয়নি। জাতীয় পার্টির নেতা-কর্মীদের জেলে পাঠিয়ে অবিচার করা হয়েছে। জাতীয় পার্টির জন্য লেভেল প্লেইং ফিন্ড ছিলোনা। সেই অবস্থাতে দেশের জনগণ জাতীয় পার্টিকে ৩৫টি আসনে নির্বাচিত করেছে। পল্লীবন্ধু দুইবার পাঁচটি করে আসনে নির্বাচিত হয়ে প্রমাণ করেছেন জাতীয় পার্টি শুরু থেকেই জনগণের রাজনৈতিক শক্তি। বিএনপি ১৪৪ ধারা জারি করে জাতীয় পার্টিকে সভা-সমাবেশ করতে দেয়নি, তারা চেয়েছিলো জাতীয় পার্টি যেন ধংস হয়ে যায় কিন্তু সাধারণ মানুষের ভালোবাসায় জাতীয় পার্টি এখনো টিকে আছে। আগামী দিনের রাজনীতিতে জাতীয় পার্টি অনেক সম্ভাবনাময় দল। তিনি বলেন, জাতীয় পার্টিকে ছাড়া কেউই রাষ্ট্র ক্ষমতায় যেতে পারছেনা।

এসময় জাতীয় পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এমপি বলেন, গেলো ১০ থেকে ১২ বছরের যে অসাধারণ উন্নয়ণ হয়েছে তার কৃতিত্ব ধরে রাখা যাবেনা যদি প্রকৃত গণতন্ত্র না থাকে। তিনি বলেন, এখন মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে কিন্তু জাতীয় পার্টির শাসনামলে মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে কোন প্রশ্ন ছিলোনা। এখন নির্বাচনে প্রার্থী খুঁজে পাওয়া যাচ্ছেনা, কারণ সবাই জানে নির্বাচনের ফলাফল কী হবে। কিন্তু জাতীয় পার্টির শাসনামলে নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন ছিলোনা। তিনি বলেন, পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ উন্নয়ণের যে ভিত্তি স্থাপন করে গেছেন, ’৯১ সালের পর থেকে সেই ভিত্তির ওপরেই আওয়ামী লীগ ও বিএনপি উন্নয়ণ কর্মকান্ড চালাচ্ছেন।

এসময় জাতীয় পার্টি মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু বলেন, ২০২০ সাল শুধু করোনাকাল নয়, বাংলাদেশে ২০২০ সাল নারী ধর্ষণ ও শিশু নির্যাতনের বছর। তিনি বলেন, দেশের মানুষ মুক্তিযুদ্ধ করেছিলো গণতন্ত্রের জন্য, বাক স্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতার জন্য। উন্নয়ণ ও সুশাসনের জন্য দেশের মানুষ উন্মুখ হয়ে আছে, তারা পরিবর্তন চায়। তারা পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ-এর জাতীয় পার্টির শাসনামল ফিরে পেতে চায়। তিনি বলেন, খুন, গুম, দুর্নীতি, দুঃশাসন, অন্যায় আর অবিচার থেকে মানুষকে মুক্তি দিতে আগামী নির্বাচনে ভোট বিপ্লবের মাধ্যমে জাতীয় পার্টির সরকার গঠন করতে হবে।

এসময় জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার বলেছেন, জাতীয় পার্টি এখন যেকোন সময়ের চেয়ে বেশি ঐক্যবদ্ধ। যারা জাতীয় পার্টির অনৈক্য নিয়ে গল্প করেছেন তাদের বক্তব্য মিথ্যা প্রমাণ করে জাতীয় পার্টি দুর্বার বেগে সামনে এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, সাধারণ মানুষ জাতীয় পার্টির দিকে তাকিয়ে আছে, তারা দেখতে চায় জাতীয় পার্টির কেবিনেট গঠনের সক্ষমতা আছে।

কো-চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপি বলেছেন, জাতীয় পার্টির ঐক্য যারা বিনষ্ট করতে অপচেষ্টা করবে তাদের ছাড় দেয়া হবেনা। তিনি বলেন, পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ-এর উন্নয়ণ ও সুশাসনের কথা গণমানুষের সামনে তুলে ধরার সময় এসেছে। জাতীয় পার্টি ঐক্যবদ্ধ থাকলে আগামী দিনে জাতীয় পার্টির নেতৃত্বে সরকার গঠন সম্ভব।

একই মিলনায়তনে সন্ধ্যায় জাতীয় সাংস্কৃতিক পার্টির সদস্যরা মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করেন। জাতীয় সাংস্কৃতিক পার্টির আহবায়ক শেরিফা কাদের-এর পরিচালনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান গ্রন্থনা ও উপস্থাপনা করেন সাংস্কৃতিক পার্টির সদস্য সচিব আলাউদ্দিন আহমেদ।

সিনিয়র কো- চেয়ারম্যান




সর্বশেষ  
জনপ্রিয়  

ফেসবুকে যুক্ত থাকুন