শুক্রবার, ২৪শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ১০ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
আজ শুক্রবার | ২৪শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

গোদনাইলে গভীর ষড়যন্ত্রের শিকার যুদ্ধাহত এক মুক্তিযোদ্ধার পরিবার প্রতিনিয়ত হুমকি দিচ্ছে ভুমিদস্যুরা

সোমবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০২০ | ৭:১৬ পূর্বাহ্ণ

গোদনাইলে গভীর ষড়যন্ত্রের শিকার যুদ্ধাহত এক মুক্তিযোদ্ধার পরিবার প্রতিনিয়ত হুমকি দিচ্ছে ভুমিদস্যুরা

সিদ্ধিরগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধার বাড়ির উপর দিয়ে অবৈধভাবে ময়লার পাইপ স্থাপন নিয়ে বাকবিতন্ডার জেরে থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। কানাডা প্রবাসী যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা মহিউদ্দিন আহমেদের বাড়ির উপর দিয়ে অবৈধভাবে প্রায় ২০টি পরিবার দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর ধরে ময়লার পাইপ স্থাপন করে তার বাড়ির কিছু অংশ দখল করে রেখেছে স্থানীয় ভুমিদস্যুরা।মুক্তিযোদ্ধা পরিবার থেকে তথ্য নিয়ে জানা যায়, উক্ত অবৈধ পাইপগুলো তার বাড়ির উপর থেকে সরিয়ে নিতে প্রায় ৪ বছর যাবত তাদেরকে অনুরোধ করলেও তারা তা সরাচ্ছে না। এক পর্যায়ে উক্ত মুক্তিযোদ্ধা কানাডা থেকে দেশে ফিরে তার বাড়ির নির্মান কাজ ধরেন। সে সুবাদে উক্ত ময়লার পাইপগুলো বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এর জের ধরে গত প্রায় ৭/৮ দিন পুর্বে প্রতিবেশী নাঈমগং মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের উপর হামলা চালায় এবং তার বাড়ির দেয়াল ভেঙ্গে দেয়। সে হামলায় মুক্তিযোদ্ধা মহিউদ্দিন গুরুতর আহত হয় এবং তাকে সুচিকিৎসার জন্য পরিবারের সদস্যরা ঢাকার পপুলার হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা করান। এ দিকে চিকিৎসা নেবার পুর্বে মুক্তিযোদ্ধা মহিউদ্দিন সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে এসআই ফারুক ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেন। উক্ত বিষয়টি মিমাংশার জন্য এনসিসি ৮ ও ১০ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলরকে দ্বায়িত্ব দেয় থানা পুলিশ।সে সুবাদে গত শনিবার ৫ ডিসেম্বর একজন সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলরসহ ৩ জন কাউন্সিলর উপস্থিত হন। সমাধানে আসা মহিলা কাউন্সিলর মিনোয়ারা এর ছেলে মুক্তিযোদ্ধার উপর হামলায় জড়িতও বলে অভীযোগ পাওয়া গেছে। মুক্তিযোদ্ধা মহিউদ্দিন ঢাকায় চিকিৎসাধীন থাকায় তিনি কাউন্সিলরদের আসার বিষয়টি না জানার ফলে এবং উপস্থিত না থাকায় উক্ত কাউন্সিলররা ভুল বুঝে উল্টো মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। ফলে বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে ঝামেলা আরও বেড়ে যায়। মুক্তিযোদ্ধার পরিবার কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে মুক্তিযোদ্ধা মহিউদ্দিন যুদ্ধে অংশ গ্রহন করেন। ভারতের আগরতলার মন্তলা টি গার্ডেনে ট্রেনিংপ্রাপ্ত হয়ে বাংলাদেশের প্রথম সেনা প্রধান জেনারেল শফিউল্লাহ’র নেতৃত্বে ৩ নং সেক্টরে গেরিলা যুদ্ধ করেন এবং তিনি ২য় ইষ্টবেঙ্গল রেজিমেন্ট এর একজন ফাউন্ডার মেম্বার। দীর্ঘ ৯ মাস বীরদর্পে যুদ্ধে অংশগ্রহন করে ১৯৭১ সালের ৪ঠা ডিসেম্বর বোমার আঘাতে তার বা হাতটি উড়ে যায় এবং বুকের মধ্যে ১৬টি স্প্রিন্টের মারাতœকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হন এবং তাকে তার সহযোদ্ধারা মৃত্যুকে উপেক্ষা করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান। চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়তে লড়তে জানুয়ারী মাসে বঙ্গবঙ্গু দেশে ফিরলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাকে দেখতে যান। এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য বঙ্গবন্ধু তাকে সাথে সাথে জার্মানীতে প্রেরন করেন। দীর্ঘ ১৯ মাস চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরে আসেন। কিন্তু তার শরীরে থাকা স্প্রিন্টারের যন্ত্রনা তখনও অনুভব হতো এবং তিনি বাড়িতেই বিশ্রামে থাকতেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট বঙ্গবন্ধু স্বপরিবারে হত্যার শিকার হলে তার মানষিক অবস্থা আরও অবনতি হয়। এরপর ১৯৯০ সালের দিকে তিনি চিকিৎসার জন্য আবারও কানাডায় চলে যান। বর্তমানে ২ কন্যা ও ১ পুত্র সন্তান নিয়ে সেখানেই স্থায়ীভাবে বসবাস করেন। দীর্ঘ ৩০ বছরের তার অনুপস্থিতে তার বাড়ির অধিকাংশ জায়গা ভুমিদস্যুরা দখল করে নিয়ে তার বাড়ির উপর দিয়ে বিভিন্ন ময়লা ও আবর্জনার পাইপস্থাপন করে। যার ফলে উক্ত সংকট সৃষ্টি হয় বলে উক্ত মুক্তিযোদ্ধার পরিবার জানান।উক্ত সমস্যার সুষ্ঠ সমাধান ও সুবিচারের জন্য ,মাননীয় সাংসদ শামীম ওসমান,মেয়র আইভী ও পুলিশ সুপারের সদয় হস্তক্ষেপ কামনা করেন ভুক্তভোগী মুক্তিযোদ্ধা পরিবার।




সর্বশেষ  
জনপ্রিয়  

ফেসবুকে যুক্ত থাকুন