বিশেষ সংবাদদাতা: এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরি জাতীয়করণ, দ্রুত পে স্কেল প্রদান, নন এমপিও শিক্ষকদের এমপিওভুক্তকরণ, শিক্ষকদের বদলির ফল প্রকাশ, পূর্ণাঙ্গ উৎসব ভাতা প্রদান, সরকারি নিয়মে বাড়িভাড়া প্রদান, চাকরির বয়সসীমা ৬৫ বছর করা, ১-১২ তম এনটিআরসিএ সনদপ্রাপ্তদের নিয়োগ বিষয়ে শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুরুল হোসেন চৌধুরী হলে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংগঠনের সভাপতি অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভূঁইয়া সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দেশের শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন এবং শিক্ষকদের সামাজিক ও আর্থিক মর্যাদা নিশ্চিত করতে এসব দাবি বাস্তবায়নের বিকল্প নেই। এ জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া বলেন, দেশের প্রায় ৯৭ শতাংশ শিক্ষার দায়িত্ব পালন করছেন বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা। অথচ তাদের চাকরির নিরাপত্তা, আর্থিক নিশ্চয়তা ও সামাজিক মর্যাদার ক্ষেত্রে নানা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। শিক্ষাব্যবস্থার সামগ্রিক উন্নয়নে শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরি জাতীয়করণ জরুরি।
জাতীয়করণে ৬ লাখ ৪৭ হাজার শিক্ষক-কর্মচারী
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপিত হিসাব অনুযায়ী, দেশের স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা এবং এসএসসি ও এইচএসসি পর্যায়ের কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মিলিয়ে মোট ৩০ হাজার ৭৮৩টি প্রতিষ্ঠানে ৬ লাখ ৪৭ হাজার ৩১১ জন শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন।
এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে স্কুল ১৭ হাজার ৪৬১টি, কলেজ ২ হাজার ৮১৪টি, মাদ্রাসা ৮ হাজার ২২১টি এবং কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ২ হাজার ২৮৭টি।
সংগঠনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, জাতীয়করণের ক্ষেত্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সম্পদ, শিক্ষার্থীদের বেতন, সেশন চার্জ, সাধারণ তহবিল ও রিজার্ভ খাত থেকে সরকারের উল্লেখযোগ্য আয় হতে পারে।
তাদের প্রস্তাবিত হিসাব অনুযায়ী, এসব খাত থেকে বছরে প্রায় ৮ হাজার ৪০০ কোটি টাকা আয় সম্ভব। ফলে জাতীয়করণের অতিরিক্ত সরকারি ব্যয় অনেকটাই কমে আসবে। তাদের উপস্থাপিত হিসাবের ভিত্তিতে অতিরিক্ত ব্যয় প্রায় ৭০০ কোটি টাকা হতে পারে বলে দাবি করা হয়।
শিক্ষক-কর্মচারীদের দ্রুত নবম জাতীয় বেতন স্কেল অনুযায়ী বেতন প্রদানের দাবি জানিয়ে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, স্বাধীনতার পর বিভিন্ন সময়ে শিক্ষক-কর্মচারীদের জাতীয় বেতন কাঠামোর আওতায় আনা হলেও এখনো বেতন-ভাতার ক্ষেত্রে বৈষম্য রয়েছে। নবম জাতীয় বেতন স্কেল বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের এমপিওভুক্ত করার দাবি জানানো হয়। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, শিক্ষার মানোন্নয়নে সব শিক্ষককে আর্থিক নিরাপত্তার আওতায় আনা জরুরি। দীর্ঘদিন ধরে বিনা বেতনে বা অপ্রতুল সুযোগ-সুবিধায় দায়িত্ব পালন করা শিক্ষক-কর্মচারীদের এমপিওভুক্তির জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।
বদলি কার্যক্রম চালু হলেও অনেক শিক্ষক-কর্মচারী এখনো নিজ জেলা, উপজেলা বা বিভাগে কর্মস্থলে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন না বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়। দূরবর্তী কর্মস্থলে চাকরি করার কারণে অনেক শিক্ষক পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এ অবস্থায় বদলির আবেদন গ্রহণ করে দ্রুত আদেশ জারির দাবি জানানো হয়।
এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বর্তমানে ৫০ শতাংশ উৎসব ভাতা দেওয়া হয় উল্লেখ করে সংবাদ সম্মেলনে পূর্ণাঙ্গ উৎসব ভাতা প্রদানের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে বর্তমান বাড়িভাড়া ভাতা দিয়ে বাসযোগ্য বাড়ি ভাড়া নেওয়া সম্ভব নয় উল্লেখ করে সরকারি নিয়মে বাড়িভাড়া প্রদানের দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসরের বয়সসীমা ৬৫ বছর নির্ধারণের দাবি জানানো হয়। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবসরের বয়সসীমা ৬৫ বছর করা হয়েছে। অভিজ্ঞ শিক্ষকরা শিক্ষা ও শিক্ষার্থীদের মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। তাই তাদের চাকরির বয়সসীমা বাড়ানো প্রয়োজন।
১ম থেকে ১২তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সনদধারীদের নিয়োগের দাবিও তুলে ধরে শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোট। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, বিভিন্ন সময়ে নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ অনেক প্রার্থী এখনো নিয়োগের অপেক্ষায় রয়েছেন। তাদের নিয়োগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভূঁইয়া বলেন, শিক্ষক-কর্মচারীদের ন্যায্য দাবিগুলো বাস্তবায়িত হলে শিক্ষাব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। শিক্ষকদের আর্থিক নিরাপত্তা ও সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করা গেলে তারা আরও নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।
তিনি শিক্ষক-কর্মচারীদের এসব দাবি বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এছাড়াও সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের মহাসচিব মো: জাকির হোসেন, মো: আব্দুল হক, এ এইচ এম সায়েদুজ্জামান, হাওলাদার আবুল কালাম আজাদ, প্রিন্সিপাল মিজানুর রহমান, অধ্যাপক বাদশা, আরিফুর রহমান তুহিন, কারিকুলাম সম্পাদক জিয়াউর রহমান প্রমুখ।
অফিস: অফিসঃ ৪৪ ক অতীশ দীপঙ্কর রোড, মুগদা, ঢাকা
বার্তা কক্ষ: ইমেইলঃ dailynarayanganjerdak@gmail.com মোবাইলঃ ০১৬১৫৫৩৭৭৫৫
কারিগরি সহযোগিতায় ফ্লাস টেকনোলজি ওয়েব সাইট www.flashtechnology.net