ফারুক আহমেদ চান, সৌদি আরব থেকে
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে একটি সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে বাংলাদেশিসহ বহু শ্রমিকের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। প্রাথমিকভাবে ১৭ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেলেও নিহতদের প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে এখনো ভিন্ন ভিন্ন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। এর মধ্যে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার ১০ বাংলাদেশি শ্রমিকের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করার কথা জানিয়েছেন নওগাঁর জেলা প্রশাসক।
রোববার স্থানীয় সময় দুপুর ২টা থেকে ৩টার মধ্যে রিয়াদের মুসা সানিয়া এলাকায় একটি সোফা কারখানায় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে কারখানার ভেতরে থাকা শ্রমিকদের মধ্যে অনেকে দগ্ধ ও ধোঁয়ায় শ্বাসরোধ হয়ে মারা যান বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, অগ্নিকাণ্ডের সময় কারখানাটিতে ১৯ জন বাংলাদেশি কর্মী ছিলেন। তাদের মধ্যে কয়েকজন আগুনে দগ্ধ হয়ে এবং অন্যরা ধোঁয়ায় শ্বাসরোধ হয়ে মারা যান বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে এ তথ্য এখনো সৌদি কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
কারখানায় থাকা ১৯ বাংলাদেশির মধ্যে দুজন দুর্ঘটনার সময় সেখানে ছিলেন না বলে জানা গেছে। তাদের একজন সেলুনে চুল কাটাতে এবং অন্যজন হাঁটতে বাইরে গিয়েছিলেন বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি।
নিহতদের অধিকাংশই নওগাঁর আত্রাইয়ের
প্রাথমিকভাবে নিহত বাংলাদেশিদের অধিকাংশের বাড়ি নওগাঁ জেলার আত্রাই উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বলে জানা গেছে। নওগাঁ জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও আত্রাই উপজেলার কয়েকজনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। নওগাঁ জেলা প্রশাসনের ওয়েবসাইটে মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামকে জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
নিহতদের মধ্যে যাদের পরিচয় পাওয়া গেছে বলে স্থানীয়ভাবে জানা যাচ্ছে, তারা হলেন—বিশা ইউনিয়নের বিশা গ্রামের সাগর (৩১) ও মজিদুল (৩৪), উদনপৈ গ্রামের ফরিদ শেখ (৩২), ডুবাই গ্রামের সুমন (৩৫) ও হাসিবুল হাসান (২৭), কালিকাপুর ইউনিয়নের গন্ডগোহালি গ্রামের মহুন প্রামাণিক (৪২), সুমন প্রামাণিক, রুবেল হোসেন (৩০), কলি প্রামাণিক (৩৫) এবং পারকাসুন্দা গ্রামের আবদুল জলিল (৩৮)।
তবে পরিচয় শনাক্ত ও সরকারি যাচাই শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিহতদের নামের তালিকাকে চূড়ান্ত হিসেবে না দেখার অনুরোধ জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
নিহতের সংখ্যা নিয়ে ধোঁয়াশা
অগ্নিকাণ্ডের পর বিভিন্ন সূত্রে নিহতের সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। কিছু প্রতিবেদনে ৭ বাংলাদেশি শ্রমিকের মৃত্যুর কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে ১৭ জনের মৃত্যুর খবরও প্রকাশিত হয়েছে।
ফলে এই মুহূর্তে বাংলাদেশি নাগরিকসহ মোট কতজন নিহত হয়েছেন, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। সৌদি কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এবং বাংলাদেশ দূতাবাসের যাচাই করা তথ্য পাওয়ার পরই প্রকৃত সংখ্যা স্পষ্ট হবে।
শোকের ছায়া নওগাঁর আত্রাইয়ে
ভয়াবহ এ অগ্নিকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর নওগাঁর আত্রাই উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজনদের মধ্যে দেখা দিয়েছে আহাজারি ও উৎকণ্ঠা। সৌদি আরবে কর্মরত স্বজনদের নিরাপত্তা ও মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।
মন্ত্রীর শোক
এদিকে সৌদি আরবে অগ্নিকাণ্ডে প্রবাসী বাংলাদেশি শ্রমিকদের মৃত্যুর ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি বর্তমানে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
এক শোকবার্তায় মন্ত্রী নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করার কথা বলেন।
তিনি জানান, সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। নিহতদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আনুষ্ঠানিক তথ্যের অপেক্ষা
রিয়াদের ভয়াবহ এ অগ্নিকাণ্ডে বাংলাদেশি শ্রমিকদের মৃত্যুর ঘটনায় এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—প্রকৃতপক্ষে কতজন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন এবং কীভাবে এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হলো।
এ বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও বাংলাদেশ দূতাবাসের আনুষ্ঠানিক তথ্যের অপেক্ষা করা হচ্ছে। নিহতদের পরিচয় ও সংখ্যা নিশ্চিত হওয়ার পরই পুরো ঘটনার চিত্র পরিষ্কার হবে।
অফিস: অফিসঃ ৪৪ ক অতীশ দীপঙ্কর রোড, মুগদা, ঢাকা
বার্তা কক্ষ: ইমেইলঃ dailynarayanganjerdak@gmail.com মোবাইলঃ ০১৬১৫৫৩৭৭৫৫
কারিগরি সহযোগিতায় ফ্লাস টেকনোলজি ওয়েব সাইট www.flashtechnology.net