
ফাহাদুল ইসলাম নারায়ণগঞ্জ জেলা সংবাদদাতা:
সরকার একের পর এক কঠোর আইন করছে, সভা-সেমিনারে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে জিরো টলারেন্সের ঘোষণা দিচ্ছে, কিন্তু বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। দেশের নদ-নদী আজ যেন প্রভাবশালী বালু খেকো সিন্ডিকেটের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে।
বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের বৈদ্যের বাজার ইউনিয়নের আনন্দবাজার এলাকায় মেঘনা নদীর বুক চিরে রাতের আঁধারে চলছে প্রকাশ্য বালু লুট, আর প্রশাসন যেন রহস্যজনকভাবে নির্বিকার দর্শকের ভূমিকায়!
‘বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন’ অনুযায়ী অবৈধভাবে বালু উত্তোলন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। আইন লঙ্ঘনের জন্য রয়েছে কঠোর শাস্তির বিধান। অথচ সেই আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে প্রতিরাতেই মেঘনা নদীতে বসছে দশের অধিক শক্তিশালী ড্রেজার। শত শত ট্রলার ও বাল্কহেডে করে লুট করা হচ্ছে কোটি কোটি টাকার সরকারি সম্পদ। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ নষ্ট হচ্ছে, ভাঙনের ঝুঁকি বাড়ছে, কৃষিজমি ও বসতভিটা হুমকির মুখে পড়ছে কিন্তু তবুও নেই কার্যকর অভিযান, নেই দৃশ্যমান প্রতিরোধ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এই অবৈধ বালু বাণিজ্যের পেছনে রয়েছে প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়া, রাজনৈতিক আশ্রয় এবং প্রশাসনের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তার নীরব সহযোগিতা। না হলে রাতের পর রাত এত বড় আকারে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন চললেও প্রশাসনের চোখে পড়ে না কেন? নদীতে অবৈধ ড্রেজারের গর্জন সাধারণ মানুষ শুনতে পায়, কিন্তু দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ শুনতে পায় না এমন প্রশ্ন এখন জনমনে ঘুরপাক খাচ্ছে।
জনসাধারণের প্রশ্ন আইন কি শুধু সাধারণ মানুষের জন্য? প্রভাবশালীদের ক্ষেত্রে কি সব আইন অকার্যকর হয়ে যায়? প্রশাসন কি সত্যিই অসহায়, নাকি সুবিধাভোগীদের স্বার্থ রক্ষায় ইচ্ছাকৃতভাবে নীরব?
এভাবে চলতে থাকলে শুধু নদী নয়, পুরো পরিবেশ ও জনজীবন ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে এখনই কঠোর ও নিরপেক্ষ অভিযান পরিচালনা না করলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে এর চরম মূল্য দিতে হবে। জনগণ দ্রুত দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে। একইসঙ্গে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি উঠেছে সর্বমহলে।
মেঘনা আজ প্রশ্ন তুলছে রাষ্ট্রের আইন কি সত্যিই কার্যকর, নাকি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের কাছে সবকিছু জিম্মি?
অফিস: অফিসঃ ৪৪ ক অতীশ দীপঙ্কর রোড, মুগদা, ঢাকা
বার্তা কক্ষ: ইমেইলঃ dailynarayanganjerdak@gmail.com মোবাইলঃ ০১৬১৫৫৩৭৭৫৫
কারিগরি সহযোগিতায় ফ্লাস টেকনোলজি ওয়েব সাইট www.flashtechnology.net