এসপি শামীমা পারভীন ও সাড়ে ৯শত কোটি টাকা"
শামীমা পারভীন নামে একজনৌ পুলিশ অফিসার ঢাকা জেলার এসপি হয়েছেন। হয়েছেন বলতে সরকার বাহাদুর পোস্টিং দিয়েছে। তা দিতেই পারে।
কিন্তু তাকে নিয়ে চলছে অভিনন্দন জানানোর ব্যাপক প্রতিযোগিতা। ছাত্রদল, বিএনপি, সাংবাদিক, কেউ বাদ নেই। ফেসবুকে অভিনন্দনের বন্যা বয়ে যাচ্ছে। প্রশ্ন হলো এই অভিনন্দন কি সত্যিই শামীমা পারভীনকে জানানো হচ্ছে নাকি তার স্বামীকে? তার স্বামী হলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের খাঁটি লোক, মানে Prime Ministers Man এবং জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল এমপি। হাওয়া ভবনের সেই কুখ্যাত মামুন-বকুল-অপু সিন্ডিকেটের বকুল।
বকুলের স্ত্রী বলেই কেউ আপা, কেউ ভাবী, কেউ চাচি ইত্যাদি সম্বোধনে শামীমা পারভীনকে অভিনন্দিত করা হচ্ছে।
অনেকের মনে থাকার কথা, বিচারপতি ওবায়দুল হাসান প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পাবার পরে ব্যাপক অভিনন্দন ও ফুলেল শুভেচ্ছা জানানোর হিড়িক পড়েছিল। ছাত্রলীগের নেতারা পর্যন্ত স্বশরীরে ফুল নিয়ে হাজির হয়েছিলেন। যা আওয়ামী লীগ সরকারকে বিব্রত করেছিল। এবং ৫ আগস্টের পরে এই শুভেচ্ছা, অভিনন্দন ইত্যাদি কারও কোন কাজে লাগেনি। সবারই আপন প্রাণ বাঁচা দশা হয়েছে। এমনকি বিচারপতি ওবায়দুল হাসানেরও।
যাইহোক, এই শামীমা পারভীনের প্রসঙ্গে ফিরে যাই। আওয়ামী লীগের আমলে তিনি পদোন্নতি বঞ্চিত ছিলেন। এই বঞ্চিত হওয়া তার অযোগ্যতার জন্য নাকি বিএনপি নেতার স্ত্রী হিসেবে হয়েছিলেন তা বলা মুশকিল হলেও একটি ছোট ক্লু দিয়ে রাখি।
৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের বিদায়ের পরে তৎকালীন আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনের নিয়োগ বাতিল করে ৮ আগস্ট ইউনূস সরকার জনাব ময়নুল ইসলামকে আইজিপি বানিয়েছিল। ময়নুল ইসলামকে আইজিপি পদে বিএনপির সুপারিশ বা চাওয়া হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন। এই গোপন তথ্য এনসিপি নেতারা পরে ফাঁস করে দিয়েছিল।
ময়নুল ঞইসলাম আইজিপি হয়েই সারাদেশের রেঞ্জ ডিআইজি, মেট্রোপলিটন কমিশনার, এসপি ও এসপি পদমর্যাদার অফিসার, থানার ওসি ইত্যাদি পদে ব্যাপক পরিবর্তন শুরু করেন। নতুন পদায়নে বিএনপি ঘরানার অফিসারেরা প্রাধান্য পায়, সঙ্গে গুপ্তরাও পেয়েছিল। বিস্ফোরক তথ্য হলো এসপি ও সমমর্যাদার পোস্টিং সিলেক্ট করে দিতেন তখন দুজন ব্যক্তি। দুজনের একজন হলেন এই শামীমা পারভীন এবং অপরজন হলেন ২৪তম ব্যাচের বরখাস্ত পুলিশ অফিসার গিয়াসউদ্দিন রিমন। কেউ আবার মনে করবেন না, এসব পোস্টিং এমনি এমনি হয়েছিল। অঢেল টাকার বিনিময়ে এসব হয়েছিল। গিয়াস উদ্দিন রিমন ৫ আগস্টের পরে লন্ডন থেকে উড়ে দেশে যান। সুযোগ থাকা সত্বেও তিনি চাকরিতে পুনর্বহাল হননি বা সুযোগ গ্রহণ করেননি। তিনি নিশ্চিত ছিলেন বিএনপি ক্ষমতায় গেলে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হবেন ! কিন্তু সেটা আর হয়নি। বর্তমানে তিনি বসুন্ধরা গ্রুপের মালিকানাধীন ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপের ডিরেক্টর বা ডিএমডি পদে কর্মরত, যেখানে ২০/৩০ লাখ টাকা মাসোহারা, গাড়ি, বাড়ি, পাকপেয়াদা ইত্যাদি সুবিধা তো আছেই। এই পদে ৫ আগস্টের পরে সাংবাদিক কাদের গণি চৌধুরী বসেছিলেন, কিন্তু রিমনের ক্ষমতার দাপটে গণি চৌধুরী ছিটকে গেছেন। এখন বসুন্ধরা গ্রুপের সুবিধা-অসুবিধা দেখভাল করেন গিয়াসউদ্দিন রিমন। যিনি ছাত্রজীবনে দৈনিক ইনকিলাবের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি ছিলেন। এজন্য অনেকেই তাকে গুপ্ত বলেন।
এই গিয়াসউদ্দিন রিমন ও শামীমা পারভীন মিলে সারাদেশে এসপি ও সমমর্যাদার অফিসার পোস্টিং দিয়ে ২০২৪ সালের আগস্ট-সেপ্টেম্বর- অক্টোবরে প্রায় সাড়ে ৯ শত কোটি টাকা লন্ডনে পাচার করেছেন। লন্ডনে কাকে এসব টাকা দিয়েছেন কিংবা নিজেরাই ভোগের জন্য জমা রেখেছেন কিনা তা বলা মুশকিল। এই দুজন ক্যাডার কর্মকর্তাদের পোস্টিং দেখভাল করতেন, আর ওসি পোস্টিং দেখভাল করতেন রমনা থানার সাবেক ওসি মাহবুবুর রহমান বা ওসি মাহবুব। যিনি ২০০১-২০০৬ মেয়াদে তারেক রহমানের রেসিডেন্সিয়াল কলেজের বন্ধু হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
শামীমা পারভীনের মতো অফিসার, যিনি এরকম বিশাল দুর্নীতির সাথে সম্পৃক্ত, তিনি কতটা পেশাদার ও সৎ অফিসার তা কি কাউকে বুঝিয়ে বলতে হবে?
অফিস: অফিসঃ ৪৪ ক অতীশ দীপঙ্কর রোড, মুগদা, ঢাকা
বার্তা কক্ষ: ইমেইলঃ dailynarayanganjerdak@gmail.com মোবাইলঃ ০১৬১৫৫৩৭৭৫৫
কারিগরি সহযোগিতায় ফ্লাস টেকনোলজি ওয়েব সাইট www.flashtechnology.net