সিদ্ধিরগঞ্জে শিমরাইল মোড়ে ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের দু’পাশ দখল করে গড়ে ওঠেছে অবৈধ পরিবহন স্ট্যান্ড। এছাড়া মহাসড়কের যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং আর অবৈধভাবে বিভিন্ন পরিবহনের বাসস্ট্যান্ড ও সিএনজি চালিত অটোরিকশা স্ট্যান্ড বানানো হয়েছে।
এতে মহাসড়কে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক যান চলাচল। সৃষ্টি হচ্ছে মারাত্মক যানজট। ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে যান চলাচলের রাস্তা। এফলে যানজট সৃষ্টির পাশাপাশি প্রায়ই ঘটছে নানা ধরনের মারাত্মক দুর্ঘটনা।
আর পরিবহনের এসব অবৈধ স্ট্যান্ডের কারণে মহাসড়কে যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে অহরহ। এসব স্ট্যান্ডকে ঘিরে চলছে চঁাদাবাজি। ক্ষমতাশীল দলের নাম ভাঙ্গিয়ে এসব চাঁদাবাজি করছে একাধিক সিন্ডিকেট। এসব চঁাদাবাজরা নিয়মিত শিমরাইল পুলিশ বক্সকে ম্যানেজ করে অবিরাম চাঁদাবাজি করছে বলে একাধিক সূত্র জানায়।
স্থানীয়রা বিষ্ময় প্রকাশ করেন মহাসড়ক ছেড়ে ফুটপাতের বাহিরে হকাররা বসলে সেখানে হাইওয়ে পুলিশের টিআই শরফুদ্দিন হামলা চালিয়ে ফলমূলসহ বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্য গুড়িয়ে বিনষ্ট করলেও মহাসড়ক জুড়ে দিনরাতভর দখল করে রাখা লেগুনা, সিএনজি, অটোরিক্সা, নীলাচল, বন্ধু পরিবহন, কোমল বাস, পায়রা, যুব কল্যান, নাফ, মঞ্জিল, সময় পরিবহনের বাসগুলোর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। পুলিশ বক্সের সামনে দিনভর পরিবহনের নৈরাজ্য চললেও রহস্যজনক কারণে টিআই শরফুদ্দিন নিশ্চুপ।
অনুসন্ধানে জানা যায়, শিমরাইল মোড়ের ডেমরা রাস্তার প্রবেশ মুখের দুই পাশের রাস্তা অবৈধভাবে দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে বাস, সিএনজি, আটোরিকশা, লেগুনা। এসব স্ট্যান্ডে সারাক্ষন মাদক সেবন চলে এবং ছিনতাইকারীর আনাগোনা চলে দিনভর। এই রাস্তা দিয়ে কয়েকটি গার্মেন্ট এবং কল-কারখানার শ্রমিক যতায়াত করে। আর প্রতিনিয়ত চোর, ছিনতাইকারীর কবলে পড়ে সর্বশান্ত হয়ে যাচ্ছে।
এসব পরিবহন স্ট্যান্ডে চাঁদাবাজি করছে একাধিক সিন্ডিকেট। এই চাঁদাবাজির মোটা একটা অংশ মাসোয়ারা হিসাবে পায় শিমরাইল ক্যাম্পের দায়িত্ব প্রাপ্ত (ইনচার্জ) টি আই শরফুদ্দীন। যার কারণে এই অবৈধ স্ট্যান্ডের বিরুদ্ধে আইনি কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না ট্রাফিক বিভাগ।
খানকায় মসজিদের সামনে আর্থৎ ডেমরা বটতলা রাস্তার প্রবেশ মুখের রাস্তা দখল করে গড়ে উঠেছে আটারিক্সসার অবৈধ স্ট্যান্ড। আর এই অবৈধ স্ট্যান্ড দিয়ে প্রতিদিন চঁাদাবাজি চলছে। এই রাস্তা দিয়ে সাধারন মানুষের চলাচলে বিঘ্ন হয়।
কাচঁপুর ব্রীজের ঢালে আর্থৎ ঢাকা-চট্রগ্রাম আউট-গোয়িং এবং ইনগোয়িং সাজেদা হাসপাতালের দুই পাশে এবং সড়ক ও জনপথের আফিসের সামনে মহাসড়কের সাথে হিমাচল, নীলাচল, দূরন্ত, বন্ধু পরিবহনসহ অবৈধ স্ট্যান্ড বানিয়ে পার্কিং করে বসে থাকে মালিক এবং চালকরা।
এই অবৈধ পার্কিং করার কারণে মানুষের আনেক ভোগান্তিতে পড়তে হয়। সেই সাথে চালকরা প্রতিনিয়ত সেবন করছে মাদক। পোষাক শ্রমিক স্বীকার হচ্ছে ছিনতাইকারির কবলে।
মৌচাক ষ্ট্যান্ডের দুই পাশের রাস্তা, সানারপাড়ের দুই পাশের অংশে মাহাসড়কের পাশ ঘিরে গড়ে উঠছে সিএনজি, আটোরিকশা, লেগুনা, প্রাইভেট, পিক-আপের অবৈধ স্ট্যান্ড। এই স্ট্যান্ড বসিয়ে একটি সিন্ডিকেট প্রতিদিন চাঁদাবজি করছে।
এ চঁাদাবাজির মোটা অংকের টাকা মাসোয়ারা পান টিআই শরফুদ্দীন। এই কারণে কোন অবৈধ স্ট্যান্ড উচ্ছেদ করেননা তিনি। এই স্ট্যান্ডকে কেন্দ্র করে প্রতিনিয়ত হচ্ছে মাদক ব্যবসা, চুরি, ছিনতাই, জুয়ার মত জঘন্য কাজ। আর ইভটিজিংয়ের স্কীকার হচ্ছে স্কুল কলেজ এবং সাধারন পথচারিরা। আর নীরব ভূমিকা পালন করছে টিআই শরফুদ্দীন।
সরেজমিনে দেখা যায়, ডেমরা-আদমজী-নারায়ণগঞ্জ প্রবেশ মুখের দুই পাশের রাস্তা, শিমরাইল মোড়ের ডেমরা রাস্তার প্রবেশ মুখের দুই পাশের রাস্তা, খানকায় মসজিদের সামনে আর্থৎ ডেমরা বটতলা রাস্তার প্রবেশ মুখের রাস্তা, ডাচ বাংলা ব্যাংকের সামনে, ইউর্টান আর্থৎ মহাসড়কের রাস্তার মাঝখানে, মহাসড়কের দুই ফ্লাইওভার ব্রীজের নিচের আংশ, কাচঁপুর ব্রীজের ঢালে আর্থৎ ঢাকা-চট্রগ্রাম আউট-গোয়িং এবং ইনগোয়িং সাজেদা হাসপাতালের দুই পাশে, মৌচাক ষ্ট্যান্ডের দুই পাশের রাস্তা, সানারপাড়ের দুই পাশের অংশ গাড়ি দিয়ে দখল করার কারণে সাধারণ মানুষ যাতায়াত করতে সমস্যা সৃষ্টি হয়।
নারায়ণগঞ্জগামী যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা তৈরী হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দেখেও যেন না দেখার ভান করছে। সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক ভাবে রাস্তা পারাপার করার জন্য (সড়ক ও জনপথ বিভাগ) ফুট ওভার ব্রিজ নির্মাণ করে দিয়েছে, যার ফলে দূর্ঘটনা কম হয়ে থাকে। আর সেই ফুট ওভার ব্রিজের উঠা-নামার রাস্তার অংশ দখল করে সিএনজি ও লেগুনা স্ট্যান্ড গড়ে তুলেছে চাঁদাবাজরা। আর এই দখলদারিত্বের কারণ হলো চাঁদাবাজদের লাখ লাখ টাকার চঁাদাবাজি।
এ বিষয়ে হাইওয়ে পুলিশের শিমরাইল ক্যাম্প ইনচার্জ (টিআই) শরফুদ্দিন বলেন, উল্লেখিত এলাকায় কোন চাঁদাবাজ নেই। আমরা সবসময় মহাসড়কের ২০ ফিট এলাকা যানজটমুক্ত রাখতে সবসময় কাজ করছি। এই এরিয়ার মধ্যে কোন অবৈধ ষ্ট্যান্ড কিংবা পার্কিং স্পট নেই। তাই আর্থিক লেনদেনের সাথে আমাদের সংশ্লিষ্টতার কোন ভিত্তি নেই।
এ বিষয়ে হাইওয়ে পুলিশের শিমরাইল ক্যাম্প ইনচার্জ (টিআই) শরফুদ্দিন বলেন, উল্লেখিত এলাকায় কোন চঁাদাবাজ নেই। আমরা সবসময় মহাসড়কের ২০ ফিট এলাকা যানজটমুক্ত রাখতে সবসময় কাজ করছি। এই এরিয়ার মধ্যে কোন অবৈধ ষ্ট্যান্ড কিংবা পার্কিং স্পট নেই। তাই আর্থিক লেনদেনের সাথে আমাদের সংশ্লিষ্টতার কোন ভিত্তি নেই।
অফিস: অফিসঃ ৪৪ ক অতীশ দীপঙ্কর রোড, মুগদা, ঢাকা
বার্তা কক্ষ: ইমেইলঃ dailynarayanganjerdak@gmail.com মোবাইলঃ ০১৬১৫৫৩৭৭৫৫
কারিগরি সহযোগিতায় ফ্লাস টেকনোলজি ওয়েব সাইট www.flashtechnology.net