সিদ্ধিরগঞ্জে শিমরাইল মোড়ে ফুটপাতে চাঁদাবাজি করতে নয়া কৌশলে মাঠে নেমেছে সেই নোমান হোসেন টুটুল। নোমান হোসেন টুটুল এর আগে সিদ্ধিরগঞ্জে বিভিন্ন শ্রমিক, পরিবহন সংগঠনের নেতাকর্মীদের নামে চাঁদাবাজিসহ নানা অভিযোগ তুলে র্যাব, পুলিশ আইনশৃংখলাবাহীনি ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরে একাধিক অভিযোগ দায়ের করেন।
সম্প্রতি নোমান হোসেন টুটুল সাতখুনের প্রধান আসামি মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত নুর হোসেনের ছোট ভাই জজ মিয়ার সাথে যোগ দিয়ে চাঁদাবাজির মিশনে নেমেছে বলে একাধিক সূত্র জানায়।
এরআগে এই টুটুল জজ মিয়ার বিরুদ্ধে বিভিন্ন দপ্তরে চাঁদাবাজি, অপহরণ, প্রানণাশের হুমকিসহ নানা অভিযোগ দায়ের করেন। সর্বশেষ তার এই হয়রানি থেকে মুক্তি পেতে জর্জ মিয়া তাকে তার দলে টেনে নেয়।
পরিবহন মালিক, শ্রমিক, হকার ও স্থানীয়দের মতে এই টুটুলের কোন ভীত নেই। তিনি কোন রাজনৈতিক দলের সাথেও সক্রীয় নন।
বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, শ্রমিক সংগঠনের নেতাকর্মীদের প্রতিপক্ষের সাথে মিশে তাদের পক্ষ নিয়ে প্রকিপক্ষকে নানা কৌশলে নানাভাবে হয়রানি ও ঘায়েল করে নিজে কিছু অনৈতিক ফায়দা ও সুবিধা নিয়ে থাকেন। সম্প্রতি জজ মিয়া নেপথ্যে থেকে টুটুলকে দিয়ে শিমরাইল মোড়ে ফুটপাতে চাঁদাবাজি করতে মাঠে নেমেছেন।
সরজমিনে দেখা গেছে, শিমরাইল মোড় রেন্ট-এ-কার স্ট্যান্ডে মঙ্গলবার গভীর রাতে নোমান হোসেন টুটুল একটি টিনসেড ঘর তুলেন। সেখানে “বাংলাদেশ হকার্স ফেডারেশন, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা প্রধান কার্যালয়” নামে একটি সাইনবোর্ড সাটিয়ে দেন। এনিয়ে সকাল থেকেই চলছে নানা আলোচনা সমালোচনা এবং সাধারণ হকারদের মধ্যে বিরাজ করছে চাঁদা আতংক
সকাল থেকেই নোমান হোসেন টুটুল স্বাক্ষরিত একটি চিঠি হকারদের কাছে পৌছে দেয়া হচ্ছে এবং হকারদের ব্যক্তিগতভাবে পৃথক পৃথক ডেকে কথা বলছেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক দাবিদার টুটুল ও সংগঠনের সভাপতি জর্জ মিয়ার ঘনিষ্ঠজন লিটন। চিঠিতে আজ বুধবার বিকেল ৪টা “বাংলাদেশ হকার্স ফেডারেশন, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা প্রধান কার্যালয়” উদ্বোধন করা হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
নাম না প্রকাশের শর্তে ফুটপাতের হকররা বলেন, দীর্ঘদিন থেকে ব্যবসায়ীক মন্দার কারণে অর্থনৈতিকভাবে জর্জরিত হয়ে পরিবার পরিজনদের নিয়ে জীবন যাপন করছেন তারা। রাত পোহালেই রমজান শুরু। রমজানকে কেন্দ্র পরিবারে খরচের মাত্রা আরও বাড়বে। এরমধ্যে যদি চাঁদা দিয়ে ব্যবসা করতে হয় তাহলে বেঁচে থাকাটাই দুরহ হয়ে পড়বে। সংশ্লিষ্ট আইনশৃংখলা বাহিনী র্যাব ও পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।
এদিকে অপর একটি সূত্র জানায়, নোমান হোসেন টুটুল এরআগে বাংলাদেশ ট্রাক ড্রাইভার ইউনিয়ন সংগঠনের নামে কাঁচপুর সেতুর নিচে চাঁদা আদায়ের চেষ্টা করলে সংগঠনের অন্যান্য নেতাকর্মীরা তাকে বহিষ্কার করেন। পরে টুটুল জর্জ মিয়ার সাথে মিলে ট্রাক স্ট্রান্ডে বুক স্লিপ চালু করে প্রতিদিন পাঁচশতাধিক ট্রাক থেকে ট্রাক প্রতি একশত টাকা আদায় করছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নোমান হোসেন টুটুল জানান, আমি কোন চাঁদাবাজী করতে বসিনি। চাঁদাবাজী নিয়ন্ত্রনের জন্য এই সংগঠন করেছি।
অফিস: অফিসঃ ৪৪ ক অতীশ দীপঙ্কর রোড, মুগদা, ঢাকা
বার্তা কক্ষ: ইমেইলঃ dailynarayanganjerdak@gmail.com মোবাইলঃ ০১৬১৫৫৩৭৭৫৫
কারিগরি সহযোগিতায় ফ্লাস টেকনোলজি ওয়েব সাইট www.flashtechnology.net