আবারও চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে ফতুল্লার কুতুবপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ। দল ঘোষিত শান্তি সমাবেশ দেশব্যাপী ব্যাপক জনসমাগমের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হলেও কোনোপ্রকার কার্যক্রম দেখ যায়নি কুতুবপুরে বলা চলে, গুরুত্বপূর্ণ ওই দিনেও ঘুমিয়েই ছিলেন ক্ষমতাসীন দলটির নেতারা। একাধিক সূত্র জানায়, জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইউনিয়ন কুতুবপুর আয়তনে দেশের দ্বিতীয় বৃহৎ ওই ইউনিয়নে ভোটারসংখ্য এক লাখ আশি হাজারেরও বেশি জাতীয় নির্বাচনগুলোতে নৌকা বরাবরই সর্বাধিক ভোট পেয়ে আসছে আলোচিত ওই ইউনিয়নে।
কিন্তু বিভিন্ন কারণেই সবসময় আলোচনার তুঙ্গে থাকা কুতুবপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ বারংবার সাংগঠনিক ব্যর্থতার পরিচয় দিয়ে আসছে। এবারও এর ব্যতিক্রম হলো না। কেন্দ্র ঘোষিত শান্তি সমাবেশে আওয়ামী লীগ নেতারা ছিলেন নিরুদ্দেশ। অন্যদিকে ফতুল্লা থানা বিএনপি'র নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটি গতকাল শনিবার (১১ ফেব্রুয়ারি) পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী পাগলা রেললাইন থেকে চিতাশাল হয়ে দেলপাড়া অবধি পদযাত্রা কর্মসূচি পালন করে। এতে করে সমালোচনার তীরে বিদ্ধ হচ্ছেন আওয়ামী লীগ নেতারা।
দলের নেতাকর্মীদের মতে, 'বয়োবৃদ্ধ ও মান্ধাতার আমলের নেতৃত্ব কুতুবপুর আওয়ামী লীগকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পেঁৗছে দিয়েছে। সভাপতি জসিম উদ্দিনকে সকলেই ধারভারবিহীন লোক হিসেবেই চেনেন। তাকে অধিকাংশ সময়েই বিভিন্ন বিচার-সালিশ, জমি সংক্রান্ত সমস্যার সমাধানেই ব্যস্ত থাকতে দেখা যায়। বিএনপি জামায়াতের সাথে তার অঁাতাত রয়েছে, এমন অভিযোগও দীর্ঘদিনের। সত্তর ছুঁই ছুঁই জসিম বয়সের কাছেও ধরাশায়ী হয়ে পড়েন প্রায়ই। অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক মানিক চঁানও বয়সের ভারে ন্যুব্জপ্রায়। দীর্ঘদিন ধরেই সক্রিয় কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচিতে তাকে দেখা যাচ্ছে না। অব্যাহত শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি রাজনীতি থেকে একপ্রকার অবসরেই চলে গিয়েছেন বলা যায়। এছাড়া কমিটির অন্যান্য সদস্যেরা শুরু থেকেই নিষ্ক্রিয়। প্রায় বিশ বছর আগে হওয়া ওই কমিটির অনেকেই ইতোমধ্যে মৃত্যুবরণ করেছেন, কেউ কেউ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রেখেছেন।
কুতুবপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মানিক চঁান বলেন, আমাদের কেউ নির্দেশনা দেয়নি তাই আমরা শান্তি সমাবেশ করিনি। অপরদিকে একই বিষয়ে কুতুবপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি জসিম উদ্দিন জানান, আমি অসুস্থ ছিলাম। কিন্তু আমি মানিক চঁান সহ ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ সবাইকে বলেছি তারা করে নাই। দীর্ঘদিন কমিটি না হওয়ার কারণে নেতাকর্মীরা শান্তি সমাবেশ করেনি। তাছাড়াও মানিক চঁান কারো কথাই শুনে না।
এ প্রসঙ্গে ফতুল্লা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বক্তাবলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম শওকত আলী বলেন, মানিক চঁানের অভিযোগ মিথ্যা। তাদেরকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফতুল্লার ৫টি ইউনিয়নে শান্তি সমাবেশের বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে কিন্তু তারা কেন করেনি এটা আমার বোধগম্য নয়।
সূত্রমতে, বিভিন্ন কারণেই কুতুবপুর আওয়ামী লীগের সাধারণ নেতাকর্মীদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। ২০১৬ সালের ইউপি নির্বাচনে অদৃশ্য মহলের ইশারায় নৌকা ফেইল করে এখানে। মোটা অঙ্কের আর্থিক সুবিধা নিয়ে বিএনপির লোকেদের মসনদে বসিয়ে রাখা হয়েছে বলে অভিমত তৃনমূল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের।
দলে ডায়নামিক নেতৃত্বের অভাব, কমিটিগুলো না হওয়া, অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দের বিতর্কিত কর্মকাণ্ড, যথাযথ মনিটরিং না থাকা, দলের মধ্যে বিদ্যমান বিভিন্ন ধারা-উপধারাসহ আরো বেশকিছু কারণে বছরের পর বছর ধরে দৈন্যদশায় ত্রাহি অবস্থা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের। এর এর সবকিছুর জন্য হাইকমান্ডকেই দায়ী করছে তৃনমূল। সেইসাথে যুগোপযোগী, মেধাবী, বিচক্ষণ নেতৃত্বকে সামনের সারিতে নিয়ে আসার দাবি তাদের।
অফিস: অফিসঃ ৪৪ ক অতীশ দীপঙ্কর রোড, মুগদা, ঢাকা
বার্তা কক্ষ: ইমেইলঃ dailynarayanganjerdak@gmail.com মোবাইলঃ ০১৬১৫৫৩৭৭৫৫
কারিগরি সহযোগিতায় ফ্লাস টেকনোলজি ওয়েব সাইট www.flashtechnology.net