ঢাকা আন্তর্জতিক বাণিজ্যমেলায় এবারের আসরে জনপ্রিয়তা পেয়েছে কাশ্মীরী আচার। স্বাদে ও ঘ্রাণে ক্রেতা-দর্শনার্থীদের মন জয় করেছে এই আচার। মেলায় কাশ্মীরী আচার স্টলের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় অনেক দর্শনার্থীর জিহ্বায় জল চলে আসে। ফলে অনেক ক্রেতা-দর্শনার্থী আচার টেস্ট করার লোভ সামাল দিতে পারছেনা। এতে করে কাশ্মীরী আচারের স্টলে ক্রেতাদের ভিড় দেখা গেছে। বিশেষ করে নারী ক্রেতাদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি হয়েছে।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, মেলায় ঘুরতে আসা তরুণ-তরুণী সহ বিভিন্ন বয়সের ক্রেতা-দর্শনার্থী কাশ্মীরী আচারের দোকানে ভিড় জমিয়েছে। বিভিন্ন রকম আচারের স্বাদ সম্পর্কে জানতে চাইছে। স্বাদের ভিন্নতা অনুযায়ী বিভিন্ন আচারের নানা পণ্যের অর্ডার করছেন।
ঢাকার বাড্ডা থেকে মেলায় ঘুরতে আসা তরুণী মোনালিসা মনিরা। তিনি বলেন, মেলা ঘুরে দেখার সময় আচারের দোকানে চোখ আটকে গেছে। আচার দেখে লোভ সামলাতে পারিনি। বেশ কয়েক রকমের আচার টেস্ট করে দেখেছি। তবে তেতুলের আচারের স্বাদ খুব ভাল লেগেছে।
জানা গেছে, ১৮ রকমের ভিন্ন ভিন্ন স্বাদের আচার বিক্রি হচ্ছে কাশ্মীরি আচারের দোকানে। বরই, তেঁতুল, কাঁচা মরিচ, জলপাই মিষ্টি, চালতা স্পাইস আচার ৪০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। জলপাই টক ও মিক্সড আচার ৬০০ টাকা কেজি। আমের মোরব্বা, আমের কাশ্মীরি ও আমলকী মোরব্বা আচার ৮০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। বোম্বাই মরিচ, কদবেল, আলুবোখারা, রসুনের আচার ৮০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। আমড়া মোরব্বা, চালতা মোরব্বা, আমড়া স্পাইস, খেজুর তেঁতুলের মিক্সড আচার ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এবার বাণিজ্যমেলায় কাশ্মীরি আচারের তিনটি স্টল রয়েছে। স্টলের মালিক মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, বাণিজ্যমেলায় ব্যাপক সাড়া পেয়েছি। এ কারণে তিনটি দোকান খোলা হয়েছে। মেলার প্রথম ১৫ দিন দৈনিক গড়ে ৩০-৩৫ হাজার টাকার আচার বিক্রি হয়েছে। এরপর থেকে বিক্রি বেড়েছে। এখন দৈনিক গড়ে ৯০ হাজার টাকার আচার বিক্রি হচ্ছে। আর প্রতি শুক্রবার এবং শনিবার ছুটির দিনে ২ লাখ থেকে আড়াই লাখ টাকার আচার বিক্রি হয়।
তিনি বলেন, কাশ্মীরী আচার একটা রেসিপীর নাম। ২০১১ সালে এই ব্যবসা শুরু করেন। পরে ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে এই ব্যবসার ট্রেড লাইসেন্স পেয়েছেন। এরপর বেশ কয়েকটি জাতীয় পুরষ্কার পেয়েছেন।
কেন আচারের ব্যবসা শুরু করলেন, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের মূল ব্যবসা ছিল রেস্টুরেন্টে খিচুড়ি বিক্রি। আর খিচুড়ির সাথে আচার এর প্রয়োজন হতো। পওে রেস্টুন্টেনের পাশে একটা মেলা হয়েছিল। সেই মেলায় আচার বিক্রি করে ব্যাপক সাড়া পেয়েছি। সেই থেকে আচারের ব্যবসা শুরু করি।
মেলার সার্বিক বিষয়ে রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সচিব ও বাণিজ্য মেলার পরিচালক ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী বলেন, শেষ সময়ে মেলায় অনেক লোক সমাগম হচ্ছে। আর ছুটির দিনে গড়ে দুই লাখের অধিক লোক সমাগম হচ্ছে। এই সংখ্যা আরও বাড়বে।
মেলায় দেশি-বিদেশি ৩৩১ প্রতিষ্ঠানের স্টল রয়েছে জানিয়ে ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী বলেন, এর মধ্যে কয়েকটি প্যাভিলিয়ন ও মিনি প্যাভিলিয়ন রয়েছে। গত বছরের চেয়ে এবার ১০৬টি স্টল বেড়েছে। বিদেশি ১০ দেশের ১৭টি স্টল রয়েছে। এবার বড় পরিসরে মেলার আয়োজন করা হয়েছে।
অফিস: অফিসঃ ৪৪ ক অতীশ দীপঙ্কর রোড, মুগদা, ঢাকা
বার্তা কক্ষ: ইমেইলঃ dailynarayanganjerdak@gmail.com মোবাইলঃ ০১৬১৫৫৩৭৭৫৫
কারিগরি সহযোগিতায় ফ্লাস টেকনোলজি ওয়েব সাইট www.flashtechnology.net