সিদ্ধিরগঞ্জে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বেপরোয়াভাবে চলছে নিষিদ্ধ পরিবহন। শিমরাইল মোড় ও সাইনবোর্ডের দায়িত্বে থাকা হাইওয়ে পুলিশের টিআই একে এম শরফুদ্দিনকে (প্রশাসন) ম্যানেজ করে এসব পরিবহনগুলো নির্বিগ্নে চলাচল করছে। অভিযোগ উঠেছে,পরিবহনসহ বিভিন্ন সেক্টর থেকে মাসে কমপক্ষে ১৬ লক্ষাধিক টাকা মাসোহারা পাচ্ছে টিআই শরফুদ্দিন।
জানা গেছে,পূর্বাঞ্চলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসসড়কের সিদ্ধিরগঞ্জের সাইনবোর্ড ও শিমরাইল মোড়। এই দুইটি পয়েন্টে পরিবহন চাঁদাবাজি নতুন নয়। মহাসড়ক যত বড় হচ্ছে পরিবহন সংখ্যাও তত বাড়ছে। চাঁদাবাজির সবচেয়ে বড় খাত পরিবহন সেক্টর। মহাসড়কের সিদ্ধিরগঞ্জ অংশের দায়িত্বে আছেন হাইওয়ে পুলিশ। জেলা ট্রাফিকের চেয়ে হাইওয়ে পুলিশের মাসোহারা বেড়েছে দ্বিগুন। মাসোহারার সর্বকালের রেকর্ড ভঙ্গ হয়েছে টিআই হিসেবে শরফুদ্দিন যোগাদান করার পর। তিনি যোগদানের পরই চাঁদাবাজির কৌশল ও টাকার পরিমাণ বাড়িয়ে দিয়েছেন। ফলে পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের মাঝে দেখা দিয়েছে চরম ক্ষোভ।
অনুসন্ধান ও পরিবহন মালিকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে চলাচলকারি এশিয়া পরিবহন, এশিয়া ট্রান্সপোর্ট ও এশিয়া এয়ারকো থেকে মাসে ২০ হাজার, শ্যামলী পরিবহন ৩০ হাজার, বন্ধু পরিবহন ২০ হাজার, নাফ এক্সপ্রেস প্রাইভেড লিমিটেড ২০ হাজার, মুক্তিযোদ্ধা পরিবহন ১৩ হাজার, মদিনার পথে পরিবহন ২০ হাজার, পায়রা পরিবহন ২০ হাজার, আদমজী কোমল মিনিবাস ২০ হাজার, সুগন্ধা পরিবহন ২০ হাজার, মঞ্জিল পরিবহন ২০ হাজার, সময় পরিবহন ২০ হাজার, হানিফ পরিবহনের চারটি শাখায় ৩০ হাজার, শান্তি পরিবহন ৪০ হাজার, ইউনিক পরিবহন ১৫ হাজার, মামুন পরিবহন ১০ হাজার, দিগন্ত পরিবহন ১০ হাজার, জোনাকী পরিবহন ১০ হাজার, এসআলম পরিবহনের চারটি ইউনিট ৪০ হাজার, দেশট্রাভেল পরিবহন ১০ হাজার, পাহাড়ীকা পরিবহন ৮ হাজার, শ্যামলী পরিবনের কয়েকটি শাখায় ৪০ হাজার, জেকে ট্রান্সপোর্ট ১০ হাজার, কসমো ট্রান্সপোর্ট ১০ হাজার, ডিকে ট্রান্সপোর্ট ১০ হাজারসহ কমপক্ষে অর্ধশতাধিক বাস ও ট্রান্সপোর্ট থেকে বিভিন্ন অংকে মাসোহারা আদায় করছেন টিআই শরফুদ্দিন। এছাড়াও লোকাল বাস, ট্রাক, জেলা ট্রাক, সিএনজি, লেগুনা ও ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক, অটোরিকশা থেকে নিয়মিত অর্থিক সুবিধা আদায় করছেন এই গুণধর টিআই।
পরিবহন সেক্টর ছাড়াও মহাসড়কের পাশে শিমরাইল মোড়ে অবৈধভাবে গড়ে উঠা ফুটপাত থেকে মাসে ৫০ হাজার টাকা মাসোহারা নিচ্ছেন তিনি। মাদানীনগরে সরকারি জায়গায় গড়ে উঠা টায়ার মার্কেট ও শিমরাইল মোর থেকে সাইনবোর্ড পর্যন্ত মাহসড়কে স্থাপিত অর্ধশতাধিক কমপ্রেসার (হাওয়া মেশিন) প্রতি দোকান থেকে মাসে ৩ হাজার টাকাসহ কমপক্ষে ১৬ লক্ষাধিক টাকা মাসোহারা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে টিআই শরফুদ্দিনের বিরুদ্ধে।
এ বিষয়ে টিআই একে এম শরফুদ্দিন বলেন, হাইওয়েতে ইজিবাইক, ফিটনেস বিহীন গাড়ি চালানো হাইকোর্ট থেকে নিষেধ। তাই আমরা এসব হাইওয়েতে এসব গাড়ি চালালে মামলা দেই। এ মামলা দেওয়ার কারনে ওরা আমার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজীর মিথ্যা অভিযোগ এনেছে।#####
অফিস: অফিসঃ ৪৪ ক অতীশ দীপঙ্কর রোড, মুগদা, ঢাকা
বার্তা কক্ষ: ইমেইলঃ dailynarayanganjerdak@gmail.com মোবাইলঃ ০১৬১৫৫৩৭৭৫৫
কারিগরি সহযোগিতায় ফ্লাস টেকনোলজি ওয়েব সাইট www.flashtechnology.net