বন্দরে ভূমি অফিসে দুর্নীতি ও অনিয়ম এবং দালালসহ ওমেদারদের হাতে জিম্মি বিভিন্ন ইউনিয়নের ক্ষুদ্র জমির মালিকেরা। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ইউনিয়নের ভূমি অফিসগুলোতে ওমেদার ও দালাল চক্রের দৌড়াত্বের কারণে বহু মানুষ নামজারী করিতে গিয়ে হয়রানির স্বীকার হচ্ছে। সবচাইতে বেশি হয়রানির স্বীকার হচ্ছে কুড়িপাড়া ভূমি অফিসের নায়েব মো. জাহাঙ্গীর আলম কাছে। তিনি ক্ষুদ্র জমির মালিকদের পেলেই রাগব বোয়ালের ন্যায় ঘ্রাস করে নেয় তাদের অফিস ষ্টাফসহ বাহিরে থাকা ওমেদার ও দালাল চক্রের মাধ্যমে।
গত ১৩ ডিসেম্বর স্থানীয় ১৪টি পত্রিকায় বন্দর ভূমি অফিসের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পরেও থেমে নেই ভূমি অফিসের নামজারীর বাণিজ্য। বিগত দিনে বন্দর ভূমি অফিসে ধামগড় ইউনিয়নের নয়ামাটি গ্রামের মো. হানিফ মিয়ার ছেলে আলীনুর, আলী হোসেন ও আলী আহম্মদ তাদের দাদা ওহাব আলী ক্রয়কৃত সম্পত্তি যাহার সাফ কবলা দলিল ৫২০৩ ও ৫৩২৩ নং ধামগড় মৌজাস্থিত সি.এস খতিয়ান ৪২৩ নং, এস.এ খতিয়ান ৩৫৪ নং, আর.এস খতিয়ান ৮৫৪ ও ৫২৮ নং, নামজারী এস.এ খতিয়ান ১৫৯০ নং, আর.এস নামজারী খতিয়ান ৩৮৬১ নং এবং বন্টন নামা দলিল ৩২৬৬ নং।
সকল কিছু প্রমাণাদি দিয়ে চার চার বার নামজারী আবেদন করিলে ‘ক’ তালিকা দেখিয়ে এবং বিভিন্ন অযুহাতে এই ব্যক্তিগুলোর নামজারীর আবেদন না-মঞ্জুর করে দেন। বার বার না-মঞ্জুর করার পরে দিশেহারা হয়ে বাংলাদেশ মানবাধিকার কর্মী (আসক) দের সাথে যোগাযোগ করিলে তাদের পরামর্শ মোতাবেক বন্দর উপজেলার নির্বাহী অফিসার এর বরাবরে গত ২ অক্টোবর ১০নভেম্বর এবং বন্দর উপজেলা ভূমি সহকারি কমিশনার এর বরাবরে ৯ নভেম্বর লিখিত ভাবে তাদের নামজারী ফিরে পাওয়ার জন্য আবেদন করেন।
দরখাস্তের পরিপ্রেক্ষিতে মানবাধিকার কর্মীরা উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভুমি) সুরাইয়া ইয়াসমিনের কার্যালয়ে একাধিকবার বসার পরেও কোন প্রতিকার মিলেনি। এছাড়া সহকারি কমিশনার (ভুমি) সুরাইয়া ইয়াসমিনের সাথে শেষ বারের মতো ভোক্তভোগীসহ মানবাধিকার কর্মীরা আলীনুর গং এর নামজারী ফিরে পাওয়ার জন্য আলোচনায় উপনিত হলে তাদের অফিস কর্মকর্তা অফিস ষ্টাফদের তলব করে জানতে চাইলে তাদের ‘ক’ তালিকার অন্র্Íভুক্ত আছে বলিয়া মতামত করেন।
প্রতিউত্তরে সুরাইয়া ইয়াসমিন এর সামনে বাংলাদেশ গেজেট বই পেশ করলে উক্ত গেজেট বইতে কোথাও খতিয়ান ভুক্ত সম্পত্তি ‘ক’ তফসিল অন্র্Íভুক্ত নয়। এর পরে ভূমি সহকারি কমিশনার সুরাইয়া ইয়াসমিন ‘ক’ তফসিলে না পেয়ে তার অফিসের কর্মরত হীরা, কানুনগো ও সার্ভেয়ারকে প্রশ্ন করলে তারা প্রতি উত্তরে ‘ক’ তফসিলে না থাকিলেও অফিস তালিকায় লিপিবদ্ধ আছে বলিয়া মতামত প্রকাশ করেন।
পরবর্তীতে কুড়িপাড়া ভূমি অফিসের নায়েব মোঃ জাহাঙ্গীর আলমকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি তার প্রতি উত্তরে বলেন আমি এসিল্যান্ড স্যারের নির্দেশে সকল কিছু করে থাকি। এছাড়া সকল কিছু তথ্য পাওয়ার জন্য মানবাধিকার কর্মীরা বন্দর উপজেলাধীন ৫টি ভূমি অফিসে সরেজমিনে ঘুরে একই চিত্র পেয়ে সহকারি কমিশনার সুরাইয়া ইয়াসমিন ও নির্বাহী অফিসার বি.কে.এম.ই-কুদরত-এ ক্ষুদাকে অবগত করেন। তাদের সকলকে অবগত করেও ভুমি অফিসের দুনর্ীতি বা অনিয়ম থামেনি।
এ বিষয়ে গত ১৩ ডিসেম্বর স্থানীয় ১৪টি পত্রিকায় একটি সংবাদ প্রকাশ হলেও ভোক্তভোগীরা কোন প্রতিকার পায়নি। এছাড়া নামজারী সম্পর্কে ইউনিয়ন ভূমি অফিসে কর্মকর্তা মোঃ জাহাঙ্গীর আলমকে জিজ্ঞাসা করিলে বিভিন্ন তথ্য বেরিয়ে আসে যাহার নামজারী আবেদন নং- ৫৪১৫১৮৮, নামজারী মামলা নং- ২৪১৬(ওঢ-ও)/২০২২-২৩ ও ডি.সি.আর নং- ২২৬৭০৬০১৭০২৪১৬ এবং যাহার খতিয়ান নং- ৭৯৭৪ এই নামজারীর কথাটি জিজ্ঞাসা করিলে সে সহকারি কমিশনার সুরাইয়া ইয়াসমিনের নাম প্রকাশ করে বলেন সকল কিছু স্যারই অবগত।
কিন্তু এই নামজারীটি গত ১৩ অক্টোবর অনুমোদিত হলেও এ পর্যন্ত ডি.সি.আর ও মূল পর্চা পাওয়া যায়নি এবং এই নামজারীর ব্যাপারে সহকারি কমিশনার সুরাইয়া ইয়াসমিনকে একাধিকবার জানানোর পরেও কাগজপত্র পাওয়া যায়নি।
ভুমি মালিক জানান, এ নামজারীর জন্য কুড়িপাড়া ভুমি অফিসের নায়েব জাহাঙ্গীর আলম ভুমির মালিক আলী আহসান এর বড় ভাই মোঃ আলীনুর এর নিকট ১৮ হাজার টাকা দাবি করিলে আলীনুর নগদ ৫ হাজার টাকা দেন এবং বাকী ১৩ হাজার টাকার জন্য মূল কাগজটি দেই দিচ্ছি বলে টালবাহানা করছেন।
এছাড়াও লালখারবাগ এলাকার জমির উদ্দিনের কন্যা মাজেদা বেগম ওয়ারিশ সূত্রে পৈত্রিক সম্পত্তি তারই ভাই ভাতিজাদের সাথে আপোষ বন্টনে ভাগ ভাটোয়ারা করার জন্য এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও মানবাধিকার কর্মীদের সর্বাত্মক সহযোগিতায় নিষ্পত্তি হলেও তাহার সত্যতার জন্য বন্দর উপজেলায় মিস কেইস আপোষ মীমাংসার নিষ্পত্তির জন্য দরখাস্ত করা হয়। যাহার কেইস নং- ১৩/২০২১।
এই মিস কেইসটিকে নিষ্পত্তি করার লক্ষ্যে বন্দর উপজেলার ভূমি সহকারি কমিশনার এর কার্যালয়ের কর্মরত আনিসুর রহমান এক দালালের মাধ্যমে মাজেদা বেগমের নিকট হতে ২০ হাজার টাকা নেন এবং একই অফিসের ওমেদার মাহাবুব মাজেদার নিকট আরো ২০ হাজার টাকা দাবি করেন।
এ ঘটনা জানাজানি হলে মিস কেইসের বাদী মাজেদা বেগমকে আনিসুর রহমান দুই ধাপে ১৫ হাজার টাকা ফেরত দেন এবং বাকী ৫ হাজার টাকা এখনো দেননি। এছাড়া হরিপুর এলাকার নাজু বেগমের নিকট হতে ওমেদার সাইফুল ৪০ হাজার টাকা কন্ট্রাক করে নামজারীর আবেদনপত্র গ্রহণ করেন।
দীর্ঘ কয়েক মাস পেরিয়ে যাওয়ার পরে ঐ নাজু বেগম বিরক্ত হয়ে ভূমি সহকারি কমিশনার সুরাইয়া ইয়াসমিনকে জানালে তাৎক্ষণিক সাইফুলকে তার টাকা ফেরত দেয়ার নির্দেশ দেন। পরে সাইফল ২৫ হাজার টাকা ফেরৎ দেন। এ সকল অনিয়ম ও হয়রানি থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার জন্য বিভাগীয় কমিশনার এবং নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেন বন্দর ভূমি অফিসের ভোক্তভোগীরা।
অফিস: অফিসঃ ৪৪ ক অতীশ দীপঙ্কর রোড, মুগদা, ঢাকা
বার্তা কক্ষ: ইমেইলঃ dailynarayanganjerdak@gmail.com মোবাইলঃ ০১৬১৫৫৩৭৭৫৫
কারিগরি সহযোগিতায় ফ্লাস টেকনোলজি ওয়েব সাইট www.flashtechnology.net