সিদ্ধিরগঞ্জের সানারপাড় শেখ মোরতোজা আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি প্রধান শিক্ষিকা দিলরুবা খাতুনের অনিয়ম তদন্ত করছেন জেলা শিক্ষা অফিস। অসদাচরণ, ভর্তি, কোচিং বাণিজ্য ও সহকারি প্রধান শিক্ষিকার পদটি ভূয়া আখ্যায়িত করে দিলরুবা খাতুনের অপসারণ দাবিতে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ ও গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হওয়ায় জেলা শিক্ষা অফিসের গবেষনা কর্মকর্তা নাজমুন্নাহার খানম গতকাল বুধবার স্কুল পরিদর্শন করেন। তিনি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির সাথে কথা বলেন। তবে অভিযোগকারী অভিভাবক কিংবা শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের কিছু জিজ্ঞাসা করেননি।
জানা গেছে, নিয়ম বহির্ভূতভাবে দিবা শাখার শিক্ষিকা দিলরুবা খাতুন স্কুল পরিচালনা কমিটির কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে ভারপ্রাপ্ত সহাকারি প্রধান শিক্ষিকা হয়ে যান। যদিও অদ্যবধি পর্যন্ত বিধি মোতাবেক কার্যকর হয়নি। অথচ তিনি সহকারি প্রধান শিক্ষিকা হিসেবে বেতন ভাতাসহ সকল সুযোগ সুবিধা ভোগ করছেন। এছাড়াও প্রতিবছর সেসন ফি, কোচিং, অনুপস্থিত শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে জরিমানা আদায়, বাধ্যতামূলক স্কুল ডায়েরী বিক্রিসহ অর্থ বাণিজ্যের অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে দিলরুবা খাতুনের বিরুদ্ধে। জহির উদ্দিন মন্ডল নামে একজন এসব অভিযোগ লিখিতভাবে দায়ের করেন ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর।
এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত ১ ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জ থেকে প্রকাশিত বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হয়। ফলে স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। তবে নিয়ম বজির্ভূতভাবে দিলরুবা খাতুনের সহকারি প্রধান শিক্ষিকার পদ ও তার অনিয়ম আড়াল করতে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জহিরুল হক এবং ম্যানেজিং কমিটির ভুয়া সভাপতি সামছুল আলম দৌঁড়ঝাপ শুরু করেন। পাশাপাশি এবিষয়ে মূখ না খোলার জন্য স্কুলের শিক্ষকদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন আওয়ামী লীগ নেতা হাজী কপিল উদ্দন হত্যা মামলার এজাহার নামীয় আসামি সামছুল আলম ও প্রধান শিক্ষক জহিরুল হক।
গত বুধবার জেলা শিক্ষা অফিস কার্যালয়ের গবেষনা কর্মকর্তা নাজমুন্নাহার খানম স্কুল পরিদর্শনে গেলে প্রধান শিক্ষক জহিরুল হক ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সামছুল আলম কৌশলে তাকে কারো সাথে কথা বলার সুযোগ না দিয়ে নিজের কক্ষে বসিয়ে আপ্পায়ণ করে বিদায় করে দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন একাধিক শিক্ষক ও অভিভাবকরা।
এবিষয়ে জানতে স্কুলের প্রধান শিক্ষক জহিরুল হক ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সামছুল আলমের মোবাইল নাম্বারে একাধিকবার ফোন করলে রিং হলেও তারা সিসিভ করেননি।
জেলা শিক্ষা অফিসের গবেষনা কর্মকর্তা নাজমুন্নাহার স্কুলে যাওয়ার কথা স্বীকার করলেও কারো বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ তদন্ত নয়, মাসিক পরিদর্শনে গিয়েছেন বলে জানান।
অফিস: অফিসঃ ৪৪ ক অতীশ দীপঙ্কর রোড, মুগদা, ঢাকা
বার্তা কক্ষ: ইমেইলঃ dailynarayanganjerdak@gmail.com মোবাইলঃ ০১৬১৫৫৩৭৭৫৫
কারিগরি সহযোগিতায় ফ্লাস টেকনোলজি ওয়েব সাইট www.flashtechnology.net