শহরের শীতলক্ষ্যা, নলুয়া ও বাপ্পী চত্বর এলাকায় শীর্ষ মাদক কারবারি সালাউদ্দিন বিটুর নেতৃত্বে গড়ে উঠেছে একটি শক্তিশালী মাদক সিন্ডিকেট। জেলার অন্যতম শীর্ষ মাদক বিক্রেতা হিসেবে বিটুর খ্যাতি রয়েছে। তার নেতৃত্বে রয়েছে নারীসহ অন্তত ডজনখানেক মাদক কারবারি। এদের মধ্যে উলেখ্য যোগ্যরা হচ্ছে, অমি হাসান, নজরচ্ল ইসলাম বাবু ওরফে কমলেট বাবু, রচ্বেল ওরফে মামা রচ্বেল, সাফোয়ান ইসলাম জয়, সাঞ্জু আক্তার, জামাই মাসুদ এবং মিলন চৌধুরী ও রনি চৌধুরী প্রমূখ। সূত্র জানায়, স্থানীয় প্রভাবশালীদের ছত্রছায়াতে রয়েছেন সালাউদ্দিন চৌধুরী বিটু।
তার এই মাদকের কারবারের সাথে পার্টনার ছিল ইব্রাহিম নামক এক যুবক। পরে তারা দুজন ভাগ হয়ে পৃথক ভাবে মাদকের কারবার শুরচ্ করে। তাদের মধ্যে ইব্রাহীম জামতলা, আমলাপাড়া এবং ফতুলার অংশে এবং সালাউদ্দিন চৌধুরী বিটু শহরের ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের নলুয়া, নিতাইগঞ্জ এবং বাপ্পী চত্বর এলাকায় ঘাঁটি গেড়ে বসেন। তবে, বিটু ব্যবসার কৌশল পরিবর্তন করে খুচরা বিক্রি বন্ধ করে দিয়ে পাইকারি ব্যবসায় নাম লেখান। এই ব্যবসা চালিয়ে যেতে নিজে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন। এই সিন্ডকেটের সদস্যদের মাধ্যমেই জেলার বিভিন্ন স্থানে মাদকের চালান পৌঁছে দিয়ে আসে। সূত্র জানায়, বিটু সিন্ডিকেটের অন্যতম সদস্য নলুয়াপাড়া বাপ্পি চত্ত্বর এলাকার নজরচ্ল ইসলাম বাবু ওরফে কমলেট বাবু।
বর্তমানে সে তামাকপট্টি, সোলেমান সিকদারের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে। তার বিরচ্দ্ধে হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। সন্ত্রাসী এতিম সুজনকে হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলায় পৃথক পৃথক সময়ে সে গ্রেফতারও হয়। তবে, বাবুর অবর্তমানে বিটু বাহিনীর হয়ে কাজ করে তার স্ত্রী সাঞ্জু আক্তার। মূলত এই সান্জুই ইয়াবা শরীরে বহন করে চাহিদা মত বিভিন্ন স্থানে পৌঁছে দিয়ে আসে। সূত্র জানায়, সালাউদ্দিন বিটু সিন্ডিকেটের আরেকজন দুর্ধর্ষ মাদক কারাবারি হচ্ছেন জামাই মাসুদ। শহরের নলুয়া পাড়া এলাকার মৃত সুলতানের ছেলে জামাই মাসুদ মাদকসহ একাধিকবার গেওফতারও হয়েছিল। তার সহযোগি হিসেবে কাজ করে পাইকপাড়া জলারপাড়া এলাকার নিজামউদ্দিনের ছেলে মো. সজিব এবং দুই নং বাবুরাইল এলকার আলমাছের দুই ছেলে মো. আল রাজু ও আল রাহাত। এছাড়াও বিটু সিন্ডিকেটের আরও দুই সদস্য হচ্ছে মধ্য নলুয়াপাড়া এলাকার মিলন চৌধুরী ও রনি চৌধুরী।
বিভিন্ন সময়ে শীর্ষ এই দুই মাদক বিক্রেতাসহ বিটুর বাড়িতে অভিযান চালায় নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশ। ওই সময় তাদের না পেয়ে এই মাদক কারবারিদের বাড়ির আসভাব পুড়িয়ে দিয়েছিল পুলিশ। বিটু, মিলন, রনিসহ এই সিন্ডিকেটের প্রত্যেকেই একাধিকবার মাদকসহ গ্রেফতার হলেও তাদের মাদক ব্যবসা বন্ধ হয়নি। সূত্র জানায়, বর্তমানে শহরের সব থেকে বড় মাদকের ডিলার ওই সালাউদ্দিন বিটু। একাধিক মামলার এই দুর্ধর্ষ কারবারি পুলিশ পিটিয়ে ভারতে পালিয়ে যায়। বর্তমানে সে শহরের শীতলক্ষ্যা এলাকাতেই রয়েছে। এদিকে সূত্র মতে, নারায়ণগঞ্জ শহর ও শহরতলীতে মাদকের ভয়াবহ বিস্তার বহুদিন থেকেই। বিভিন্ন স্থানে ইয়াবা, ফেনসিডিল, গাঁজাসহ নানা ধরণের মাদকের ব্যবসার প্রসার ঘটেছে।
এসব ব্যবসার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে শহর ও শহরতলীতে বেশ কয়েকটি হত্যাকান্ডের ঘটনাও ঘটেছে। এরমধ্যে উলেখযোগ্য হচ্ছে, পাইকপাড়ায় সন্ত্রাসী চোক্কা সুমন, দেওভোগ বাংলাবাজার এলাকায় রিপন হত্যা, দেওভোগ নাগবাড়ি এলাকায় শিপলু বেপারি, দেওভোগ মাদরাসা রোডে রকিবুল হাসান রকি, বাবুরাইল তাঁতিপাড়া এলাকায় সন্ত্রাসী মেজর পারভেজ, কাশিপুরের হোসাইনী নগর এলাকায় মিল্টন হোসাইন ও পারভেজ আহম্মেদ, ফতুলায় আনোয়ার ইসলাম বাবু ওরফে জামাই বাবু, রূপগঞ্জের বিউটি আক্তার কুট্টি, ফতুলার পাগলা কুতুবপুরের জুম্মন, গোদনাইলের নীরব হোসেন, পাগলা কুতুবপুরের কিলার মনির, আলী হোসেন, নিশ্চিতাপুরে বিলাল, নাজমুল, তোফাজ্জল, সাডি বাবুলসহ আরও বেশ কিছু হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে। তথ্যমতে, বিটু এবং ইব্রাহিম ছাড়াও শহর ও শহরতলীতে অন্তত বড় মাপের মাদক ব্যবসায়ী রয়েছে কয়েক ডজন। এরা নিজ বাহিনীর মাধ্যমে খুচরা মাদক ব্যবসা চালানোর পাশাপাশি মাদকের বড় বড় চালান হাত বদল করছে। এদের মধ্যে অন্যতম, শহরের মাদক সম্রাট তবলা রিপন, রাহাত, হাজী রিপন, ফতুলায় ক্রসফায়ারে নিহত ‘নরঘাতক’ রকমতের সহযোগি মোফাজ্জাল হোসেন চুন্নু, রফেদ, মিঠুন, জামাই আসলাম, ডাকাত রনি, নাইট পারভীন, রচ্হুল আমিন কাকন, জামতলার আপেল, সিদ্ধিরগঞ্জের টুন্ডা সেলিম ও শাহজাহান সরকার সাজু প্রমূখ।
অফিস: অফিসঃ ৪৪ ক অতীশ দীপঙ্কর রোড, মুগদা, ঢাকা
বার্তা কক্ষ: ইমেইলঃ dailynarayanganjerdak@gmail.com মোবাইলঃ ০১৬১৫৫৩৭৭৫৫
কারিগরি সহযোগিতায় ফ্লাস টেকনোলজি ওয়েব সাইট www.flashtechnology.net