ফাহাদুল ইসলাম সোনারগাঁ প্রতিনিধিঃ
সোনারগাঁওয়ে দাবীকৃত যৌতুক না পেয়ে গর্ভবতী স্ত্রী শামসূন নাহার (১৬) কে মারধর ও তার গর্ভে থাকা সন্তানকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ঘাতক স্বামী মামুনের বিরুদ্ধে (৩২) ।
গত ২৩ জুলাই সোমবার সন্ধ্যা আনুমানিক সাতটার দিকে যৌতুকের টাকা আনতে অপারগ হলে স্বামী মামুন, শশুর শাশুড়ি, ননদ সহ আরো ৪/৫ জন মিলে অমানুষিক নির্যাতন চালায়।
ভুক্তভোগী শামসুন্নাহার কাছ থেকে জানা যায়, ১ বছর পূর্বে নারায়ণগঞ্জ, সোনারগাঁ থানার গোয়লদী গ্রামের মীলন মির এর ছেলে মামুন মীর এর সাথে একি গ্রামের সফিউদ্দিন মেয়ে সামসূন্নাহার (১৭) বিয়ে হয়। মেয়ে কুটি টাকার সম্পত্তির মালিক যেনে নানারকম ছলচাতুরি করে, ফুচলিয়ে ফাসলিয়ে, বিভিন্ন কবিরাজের মাধ্যমে অশোধ উপায়ের মাধ্যমে বশ করে বিবাহ করতে বাধ্য করে।
বিয়ের ১ম মাসে গর্ভবতী হয় স্ত্রী শামসুন্নাহার । এর কিছুদিন পরেই যৌতুকের টাকার জন্য স্ত্রী শামসূন নাহার কে নানাভাবে চাপ দিতে থাকে স্বামী মামুন মীর, শশুর মীলন মীর এবং শ্বাশুড়ি আনোয়ারা খাতুন।
এনিয়ে গৃহবধূ সামসুন্নাহার সাথে শ্বশুড়, শ্বাশুড়ি দেবর ও ননদ কাকূলী স্মামি স্বামীর সাথে সবসময় ঝগড়া বিবাদ লেগেই থাকতো স্ত্রী সামসূন নাহার।
এ ছাড়াও আরো জানান, বিবাহের পূর্বে কোন দাবি-দাওয়া ছিল না স্বামী মামুনের, বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই, নানা অজুহাতের মাধ্যমে বাপের বাড়ি থেকে টাকা পয়সা আনার জন্য চাপ দেয় এবং বিদেশে পাঠানোর জন্য বিশেষভাবে বল প্রয়োগ করতে থাকে।
স্ত্রী শামসুন্নাহার তার দাবি কৃত ইচ্ছা পূরণ করতে অক্ষম হলে এবং অনিহা প্রকাশ করলে সে দফায় দফায় লাঠি সোটা নিয়ে মারপিট করতে থাকে।
তারী ধারাবাহিকতায় গত ২৩ জুলাই সন্ধ্যা সাতটার দিকে যৌতুকের টাকা নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ফের বাক-বিতন্ডা শুরু হলে একপর্যায়ে ঘাতক স্বামী মামুন সহ শশুর শাশুড়ি ও ননদ মিলে লাঠি লাঠি সোঠা দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে সামসুন্নাহার কে ঘরবন্দী করে রাখে।
এমতাবস্থায় শামসুন্নাহারের মা হাওয়া বেগম খবর পেয়ে সোনারগাঁ থানা পুলিশের মাধ্যমে তাকে উদ্ধার করে সোনারগাঁ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়।
শামসুন্নাহার তখন ছয় মাসের গর্ভবতী, গুরুতর আহত হলে তার অবস্থা আশঙ্কা জনক হলে ঢাকা মেডিকেল ভর্তির জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে শামসুন্নাহার এর অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক হলে জরুরী ভিত্তিতে তার বাচ্চা খালাসের পরামর্শ দেওয়া হয়, অন্যথায় স্ত্রী শামসুন্নাহারের জীবন বিপদ মুখী জানান ঢাকা মেডিকেল।
এসময় হাওয়া বেগম মেয়ে শামসুন্নাহার জীবন বাঁচানোর জন্য তার বাচ্চা খালাসের অনুমতি দেয়া । বাচ্চা খালাসের কিছুক্ষণের মধ্যে মৃত্যুবরণ করে।
এ বিষয়ে স্ত্রী শামসুন্নাহার ও হাওয়া বেগমের দাবি তার ওপর অমানসিক নির্যাতনের কারণে মেয়ে শামসুন্নাহারের পেটে থাকা বাচ্চা নষ্ট হয়ে যায় এবং বাচ্চা খালাসের পর সাথে সাথে মারা যায়।
অভিযুক্ত স্বামী শশুর শাশুড়ির কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তারা বলেন, তার ওপর কোন নির্যাতন করা হয়নি, শামসুন্নাহার নিজে তার স্বামী মামুনের সংসার করবে না বলে বাচ্চা নষ্ট করে ফেলে।
ভুক্তভোগী শামসুন্নাহার ও তার পরিবারের দাবি তার শ্বশুর বাড়ির লোকজন ক্ষমতাশালী ও প্রভাবশালী হওয়ায় ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
ভুক্তভোগী শামসুন্নাহার ও তার পরিবার জান, শামসুন্নাহার কে নির্যাতন ও যৌতুকের দাবি সহ তার বাচ্চাকে হত্যা করায় তার স্বামী, শ্বশুর-শাশুড়িসহ অজ্ঞাত ৪-৫ জনের নামে মামলার প্রস্তুতি চলছে।
অফিস: অফিসঃ ৪৪ ক অতীশ দীপঙ্কর রোড, মুগদা, ঢাকা
বার্তা কক্ষ: ইমেইলঃ dailynarayanganjerdak@gmail.com মোবাইলঃ ০১৬১৫৫৩৭৭৫৫
কারিগরি সহযোগিতায় ফ্লাস টেকনোলজি ওয়েব সাইট www.flashtechnology.net