সিদ্ধিরগঞ্জ থানা কার্যালয় ঘেরাওকে কেন্দ্র করে আদমজী বিহারি ক্যাম্পের বাসিন্দাদের সঙ্গে পুলিশ ও র্যাবের দফায় দফায় সংঘর্ষে রণক্ষেত্রে পরিনত হয় এলাকা। সোমবার (১৩ জুন)সকাল থেকে সাড়ে ১২ টা পর্যন্ত এই সংঘর্ষে পুলিশসহ অর্ধ শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়। আদমজী বিহারি ক্যাম্পের বাসিন্দাদের বৃষ্টির মতো ইটপাটকেল নিক্ষেপের ফলে সংঘর্ষ থামাতে ভোগান্তি পোহাতে হয় পুলিশ সদস্যদের। তারা স্থানীয় কাউন্সিলর মতিউর রহমান মতির মোবাইলে একাধিক বার ফোন দিলে তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়। এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনুরোধে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এই ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও নারায়ণগঞ্জ জেলা বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন এর সভাপতি আলহাজ্ব সিরাজুল ইসলাম মন্ডল। তিনি আসার পরও বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়ে এবং তাদের আটক আত্মীয়-স্বজনদের মুক্তির দাবিতে বিভিন্ন শ্লোগান দিতে থাকে। এসময়ে সিরাজ মন্ডল উত্তেজিত লোকজনকে বুঝিয়ে শান্ত হতে বলেন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে গ্রেফতারের বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধান করে দেয়ার আশ্বাস দেন। এতে বিক্ষোভকারীরা তার কথায় আস্তা রাখে। এবং পুলিশ, র্যাব ও সিরাজ মন্ডলের ভুমিকায় আন্দোলন তুলে নিয়ে ক্যাম্পে ফিরে যান বিক্ষোভকারীরা। সড়ক থেকে বিক্ষোভকারীরা সরে গেলে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত ও স্বাভাবিক হয়।এদিকে বিক্ষোভকারীরা সংঘর্ষ শেষে আদমজী বিহারী ক্যাম্পে চলে গেলে ঘটনাস্থলে আসেন বর্তমান কাউন্সিলর মতিউর রহমান মতি, তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী কিশোরগ্যাং লিডার সন্ত্রাসী আক্তার ওরফে পানি আকতার ও তার বাহিনী, মতির আরেক সহযোগী আশরাফ ও তার বাহিনীর লোকজন, তার ভাগ্নে মামুন ওরফে ভাগিনা মামুন। এসময় বিক্ষোভকারীরা কাউন্সিলর মতির বিরুদ্ধে বিভিন্ন শ্লোগান দিতে থাকে এবং তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং বিহারী ক্যাম্প থেকে চলে যেতে বলেন। এ সময় তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেলেও হামলা চালায় ক্যাম্পের বিক্ষোভকারীরা। পরে অবস্থা বেগতিক দেখে লোকজন নিয়ে বিহারী ক্যাম্প থেকে সটকে পড়েন কাউন্সিলর মতি। নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক কয়েকজন বিহারী জানায়, ক্যাম্পের ভোলা মেম্বার হ্যান্ড মাইকিং করে লোকজন জড়ো করে। এবং ইপিজেডের পকেট গেট, রেললাইন গেটে বাধা সৃষ্টি করে। ক্যাম্পের লোকজনকে জড়ো করে থানার দিকে পাঠায়। তারা আরও জানায়, পুলিশের মামলায় যারা আসামী হয়েছে তাদের নাম দিয়েছে বিহারি ক্যাম্পের পুলিশ সোর্স ভুট্ট, নাসিম মাস্টারের ভাই তাসলিম, ভোলা মেম্বার, শাহজাদা। এরা ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিল না এমন মানুষদের নাম পুলিশকে দিয়েছে বলে জানা যায়।পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম জানান, পুলিশের বিশেষ অভিযানে কিছু আসামী ধরা হয়েছিল। এ ঘটনায় তাদের লোকজন থানার সামনে এসে জড়ো। এ নিয়ে ঝামেলা হয়েছে। তবে কেউ হতাহত হয়নি। সিদ্ধিরগঞ্জ থানার এসআইকে মারধরের ঘটনায় গ্রেপ্তার অভিযান চালানো হয়েছিল কি না এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শুধু এসআইকে মারধরের ঘটনা নয়, ওই এলাকায় মাদব ব্যবসায়ি ও সন্ত্রাসীদের আস্তানা রয়েছে। সব মিলিয়ে অভিযান চালিয়ে ৩১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত: শুক্রবার জুমআর নামাজের সময় খুদবার আগে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার এস আই আজিজুল হক ইমাম সাহেবের কাছ থেকে মাইক নিয়ে মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে মাদক ব্যবসায়ি, কিশোরগ্যাং, ইভটিজিং বিষয়ের পর বলেন, ভারতে মহানবীকে নিয়ে কটুক্তি করা হয়েছে। প্রতিবাদ হচ্ছে। ভারতের বিষয় ভারতে থাক। ভারতের বিষয়ে এখানে আমরা না আনি। প্রতিবাদ করবো কিন্তু যেন বিশৃংখলা না হয়। তার এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে তার উপর দফায় দফায় হামলা করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে ৫০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত ১২০/১২৫ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করে। পুলিশের দাবি, হামলার সময় মুসল্লি বেশে একটি মাদক ব্যবসায়ি গ্রুপ ও তাদের সহযোগিরা হামলার নেতৃত্ব দেয়।
অফিস: অফিসঃ ৪৪ ক অতীশ দীপঙ্কর রোড, মুগদা, ঢাকা
বার্তা কক্ষ: ইমেইলঃ dailynarayanganjerdak@gmail.com মোবাইলঃ ০১৬১৫৫৩৭৭৫৫
কারিগরি সহযোগিতায় ফ্লাস টেকনোলজি ওয়েব সাইট www.flashtechnology.net