নারায়ণগঞ্জ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে টেন্ডার সন্ত্রাসের খবরটি ছিল গতকাল বেশ আলোচিত। এর আগেরদিন ২১ মার্চ ওই টেন্ডারবাজির ঘটনা ঘটে। নারায়ণগঞ্জ জেলায় দীর্ঘদিন পর কোন টেন্ডার নিয়ে আধিপত্যের ঘটনা ঘটেছে।
সূত্রমতে, শহরের ৭৪ বঙ্গবন্ধু রোড উকিলপাড়ায় লাইফ ভিউ-ফুলকুঁটির, মীম-শরৎ এপার্টমেন্ট এর পাঁচতলায় নারায়ণগঞ্জ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক এর কার্যালয় অবস্থিত। এই কার্যালয়ে ২১ মার্চ নারায়ণগঞ্জ সিএসডি এর জরাজীর্ণ ও ব্যবহার অযোগ্য ১৩টি টিনসেড খাদ্যগুদাম, অফিসভবন, ব্যবস্থাপক এবং ২ জন সহকারী ব্যবস্থাপকের আবাসিক বাসভবনের পুরাতন স্থাপনাসমুহ বিক্রির জন্য টেন্ডার আহবান করে। দরপত্রে ২ জন সহকারী ব্যবস্থাপকের বাসভবনের মূল্য নির্ধারণ করা হয় ৬৭ হাজার ৪১৪ টাকা। ব্যবস্থাপকের আবাসিক ভবনের দাম ধরা হয় ৫৫ হাজার ৪৬৫ টাকা। অফিস ভবন এর দাম ধরা হয়েছে ২ লাখ ৭০ হাজার ৭৫৩ টাকা। ১৩ টি টিনসেড খাদ্যগুদামের দাম ধরা হয়েছে ২৯ লাখ ৭৯ হাজার ৪০৪ টাকা।
জানাগেছে, উন্মুক্ত পদ্ধতীতে দরপত্র আহবান করা হয়। ১৫ ফেব্রুয়ারী দরপত্রের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয় ইংরেজী দৈনিক অবজারভার ও বাংলা দৈনিক জনতা’য়। ২১ মার্চ বেলা ২ টা পর্যন্ত দরপত্র গ্রহণের সময় ও তারিখ নির্ধারণ করা হয়। টেন্ডার গ্রহণ করা হয় জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের অফিসে। টেন্ডার খোলার সময় ছিল ২১ মার্চ বিকেল ৩ টা । আইটেমভিত্তিক দর দাখিল করতে হবে। নইলে বাতিল হবে দরপত্র। মোট সর্বোচ্চ দরদাতা নির্ধারণ করা হবে। দরপত্রের সিডিউল বিক্রি হয়েছে ২ হাজার টাকা করে। যা অফেরত যোগ্য। দরপত্র আহবানকারী কর্মকর্তা মো: হুমায়ূন কবির, জেলা খাদ্র নিয়ন্ত্রক (অ.দা.), নারায়ণগঞ্জ। অত্র দরপত্র পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রেগুলেশন, ২০০৮ অনুয়ায়ী পরিচালিত হবে। কোনো কারণ দর্শানো ব্যতিরেকে সংগ্রাহক সত্ত্বা এ নোটিশ বাতিল বা পরিবর্তন অথবা যে কোন বা সকল দরপ্রস্তাব গ্রহণ/প্রত্যাখান/ বাতিল করার ক্ষমতা সংরক্ষণ করেন।
এই টেন্ডারের জন্য সিডিউল বিক্রি হয়েছিল ৭৪টি। শেষে কিনা টেন্ডার জমা দেয়ার সৌভাগ্য হয়েছে পর্দার অন্তরালে থাকা রহস্যময় এক সিন্ডিকেটের ৭ ঠিকাদারের। ৬৭ জন ঠিকাদার টেন্ডার বাক্স পর্যন্ত পৌঁছুতে পারেনি। তার আগেই চিহ্নিত হোন্ডাবাহিনীর লোকজন আগত ঠিকাদারদের বিশেষ কায়দায় সালাম জানায়। ইঙ্গিতময় সালামের ভাষা যিনি বুঝতে পারেননি একমাত্র এমন ঠিকাদারকেই একজন এমপির কথা বলা হয়েছে। ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকা থেকে ঠিকাদাররা এসে ফেরত গেছে। টেন্ডার জমা দিতে পারেননি। নারায়ণগঞ্জের ঠিকাদারদের উকিলপাড়া থেকে তাড়িয়ে দেয়া হয়েছে অন্তরালে থাকা বড়ভাইদের কথা বলে।
ঠিকাদারদের অভিযোগ, প্রভাবশালীরা ঠিকাদার সেজে খাদ্য অফিসের টেন্ডার যেনো একপ্রকারে ছিনিয়েই নিল। সিন্ডিকেটের শাহীন ৩৪ লাখ টাকায় সর্বোচ্চ দরদাতা বিবেচিত হয়েছে। অথচ এমন ঠিকাদারও ছিল যে ৪০ লাখ টাকায় টেন্ডার জমা দিতে এসেছিলেন। সন্ত্রাসীদের বাধায় ফিরে গেছেন।
তবে জেলা খাদ্য অফিসের কর্মকর্তারা বলেছেন, শান্তিপূর্ণভাবেই সোমবার টেন্ডার ওপেন করা হয়েছে। সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত অফিসে পুলিশ মোতায়েন ছিল। বিকেল ৩ টায় টেন্ডার বাক্স খোলা হয়। উপস্থিত ঠিকাদাররা সাক্ষী হিসেবে স্বাক্ষর করেছেন। ওই টেন্ডার জেলা প্রশাসকের অফিসে মূল্যায়নের জন্য পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে মূল্যায়ন হয়ে আসলেই টেন্ডারদাতার নাম ঘোষণা করা হবে। আপাতত এরচেয়ে বেশি কিছু বলা সম্ভব নয়।
জানতে চাইলে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো: হুমায়ুন কবির দৈনিক সময়ের নারায়ণগঞ্জকে বলেন, টেন্ডার প্রক্রিয়া শান্তিপূর্ণভাবেই সম্পন্ন হয়েছে। আপনারাও আছেন। সকাল থেকেই পর্যাপ্ত পুলিশ ছিল। নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভালো ছিল। তবে আশানুরূপভাবে ঠিকাদারদের উপস্থিতি চোখে পড়েনি।
ঠিকাদারদের সূত্রগুলো জানায়, সোমবার সকাল থেকেই শহরের খানপুরের আকতারসহ হোন্ডাবাহিনীর লোকজন মহড়া দিতে থাকে উকিলপাড়ায়। টপটেন খ্যাত মার্কেট এর পাঁচতলায় খাদ্য নিয়ন্ত্রকের অফিসে টেন্ডার অনুষ্ঠিত হয়। বিভিন্ন স্থান থেকে ঠিকাদাররা টেন্ডার জমা দিতে আসেন। টপটেন মার্কেটের সামনেই আকতারের নেতৃত্বে ২০/৩০ জনের একটি দল অবস্থান নেয়। ওদের দলে কয়েকজন ঠিকাদারও ছিল। ওই সকল ঠিকাদররা টেন্ডার জমা দিতে আসা ঠিকাদারদের দেখিয়ে দিচ্ছিল দলটিকে। আক্তার নুর ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা একেকজন ঠিকাদারকে এম’ির নাম ভাঙ্গিয়ে তাড়িয়ে দেয়। ওরা বলে বেড়ায় যে, এটা এমপি সাবের ব্যাপার। কেউ টেন্ডার ফালাইবো না।
ঢাকা থেকে আগত কয়েকজন ঠিকাদার জানান, এমপির লোকজন পরিচয় দিয়ে একদল সকাল থেকেই উকিলপাড়ায় খাদ্য অফিসের নিচে অবস্থান নেয়। এক পর্যায়ে ঠিকাদার সেজে খাদ্য অফিসে গিয়ে অবস্থান নেয়। খাদ্য অফিসের প্রশাসনিক কর্মকর্তার কক্ষে ঠিকাদার সেজে সাঙ্গপাঙ্গ নিয়ে বসেছিল আকতার নূর। কারণ কক্ষের ঠিক সামনের কক্ষে ছিল টেন্ডার বাক্সটি। কেউ টেন্ডার জমা দিতে গেলে আকতার নূরসহ বাহিনীর লোকজন সরাসরি দেখতে পাবে। হয়েছেও তাই। ওদের সামনে দিয়ে কেউ ওই রুমের দিকে পা বাড়ালেই ওরা ডাক দিয়েছে আপনি কে? কি চান? এভাবে ওরা বিকেল তিনটে পর্যন্ত প্রশাসনিক কর্মকর্তার কক্ষেই অবস্থান করেছে। তাদের ভয়ে অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ছিল ভয়ে তটস্থ।
অফিস: অফিসঃ ৪৪ ক অতীশ দীপঙ্কর রোড, মুগদা, ঢাকা
বার্তা কক্ষ: ইমেইলঃ dailynarayanganjerdak@gmail.com মোবাইলঃ ০১৬১৫৫৩৭৭৫৫
কারিগরি সহযোগিতায় ফ্লাস টেকনোলজি ওয়েব সাইট www.flashtechnology.net